পহেলগাঁও হামলায় শোকে স্তব্ধ দেশ ! মুসলিম সংগঠনগুলির ‘ওয়াকফ বাঁচাও’ আন্দোলন ৩ দিন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হওয়া নারকীয় জঙ্গি হামলা এবং কমপক্ষে ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই হামলার শিকার হওয়া মানুষগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে মুসলিম সংগঠনগুলি তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং রাজধানী দিল্লিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকার আজ একটি সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছে।
দেশজুড়ে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ‘ওয়াকফ বাঁচাও’ আন্দোলন চালাচ্ছিল। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল যাতে ওয়াক্ফ আইন প্রত্যাহার করা হয়। তবে পহেলগাঁওয়ের মর্মান্তিক হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি সংহতি ও শ্রদ্ধা জানিয়ে আপাতত ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (AIMPLB)।
AIMPLB-এর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী তিন দিনের জন্য ওয়াকফ বিরোধী সমস্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা হবে। তবে, তিন দিন পর ফের আন্দোলন শুরু হবে বলেও বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড ছাড়াও জামাত-ই-ইসলামি হিন্দ এবং জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ সহ দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলোও পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নাগরিক সমাজে সন্ত্রাসের কোনও স্থান নেই। জামাত-ই-ইসলামির সভাপতি সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি বলেছেন, এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। নিরীহ মানুষের প্রাণহানি গভীরভাবে দুঃখজনক এবং এই ধরণের বর্বর কাজের কোনও যুক্তি থাকতে পারে না। তিনি দায়ীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পহেলগাঁও হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। হামলার মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি সর্বদল বৈঠকের দাবি তুলেছিল। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার আজ সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে একটি সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, ভূস্বর্গে বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের উপর চালানো এই নারকীয় হত্যালীলার প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লিতে পাকিস্তানের উপর ক্ষোভ উগরে রাজপথে নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষজন। দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে এবং ‘অ্যান্টি টেরর ফোরাম’-এর ব্যানারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। “পাকিস্তান হুঁশিয়ার”, “পাকিস্তান মুর্দাবাদ” স্লোগানে মুখরিত হাই কমিশন চত্বর। সামগ্রিকভাবে পহেলগাঁও হামলার পর ভারতজুড়ে শোক, নিন্দা এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।