বিশেষ: স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে পুজো দিলেই ঘটে বিচ্ছেদ, জেনেনিন ভারতের কোথায় রয়েছে এই মন্দির?

হিমাচল প্রদেশের রামপুর শহর থেকে প্রায় ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় এক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত দেবী দুর্গার একটি অত্যন্ত বিখ্যাত মন্দির হলো ‘শ্রী কোটি মাতা’ মন্দির। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দেবীকে ‘শ্রী কোটি মাতা’ নামে অভিহিত করে থাকেন। এই মন্দিরের মূল বিশেষত্ব হলো এখানে কোনও স্বামী-স্ত্রী একসাথে পূজা করতে পারেন না।

মন্দিরের বিশেষত্ব:

এই মন্দিরের সঙ্গে একটি অদ্ভুত এবং আকর্ষণীয় পৌরাণিক কাহিনী জড়িত রয়েছে। ঐতিহ্যগত বিশ্বাস অনুসারে, দেবী পার্বতী এখানে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, যদি কোনও স্বামী-স্ত্রী একসাথে এই মন্দিরে প্রবেশ করে বা পূজা করে, তাহলে তাদের বিচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হবে।

এই গভীর বিশ্বাসের কারণে, এখানে কখনোই স্বামী-স্ত্রী একসাথে মন্দিরে প্রবেশ করেন না বা একসাথে পূজা করতে পারেন না। রীতি হলো, প্রথমে পরিবারের একজন (স্বামী বা স্ত্রী) মন্দিরে প্রবেশ করে পূজা সম্পন্ন করেন এবং মন্দির থেকে বেরিয়ে যান, তারপর অন্যজন মন্দিরে প্রবেশ করে পূজার জন্য আসেন।

মন্দিরে কেবল দেবী দুর্গার মূল মূর্তিই নয়, তাঁর পুত্র গণেশের মূর্তিও স্থাপন করা আছে। মন্দিরটি ঘিরে রয়েছে ঘন সবুজ বনানী এবং চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম ও শান্ত।

কিভাবে যাবেন:

রামপুর শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই মন্দিরে যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি বা জিপ ভাড়া পাওয়া যায়। দুর্গম পাহাড়ি পথে এই যাত্রা বেশ রোমাঞ্চকর।

কোথায় থাকবেন:

মন্দিরের নিকটবর্তী রামপুর শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্ট হাউসের ব্যবস্থা রয়েছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

পূজার সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
প্রবেশ মূল্য: বিনামূল্যে।
স্থানীয় বাজার: মন্দিরের কাছেই ছোটো একটি বাজার রয়েছে যেখানে খাবার ও পানীয় উপলব্ধ।
শ্রী কোটি মাতা মন্দির কেবল একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থানই নয়, এর সঙ্গে জড়িত পৌরাণিক কাহিনী, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং চারপাশের রহস্যময় ও মনোরম পরিবেশ এটিকে পুণ্যার্থী এবং পর্যটক উভয়ের কাছেই এক বিশেষ আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। এই মন্দিরের অনন্য প্রথা এটিকে ভারতের অন্যতম কৌতূহলোদ্দীপক মন্দিরের তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।