খুনের অভিযোগে ৬ বছর জেল খেটে, সেই ‘মৃত’ মহিলা আজ ও জীবিত, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ আদালতের

এ যেন গল্পের প্লটকেও হার মানায়! এক মহিলাকে খুনের অভিযোগে প্রায় ছয় বছর ধরে জেলে ছিলেন মনজিৎ কারকেত্তা। অথচ পরে জানা যায়, যে মহিলাকে (সোনি ওরফে ছোটি) হত্যার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ছিল, তিনি আসলে জীবিত রয়েছেন। আর যিনি সত্যিই মারা গেছেন, তাঁর পরিচয় আজও জানা যায়নি। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সোমবার মনজিৎ কারকেত্তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট।

বিচারপতি গিরিশ কাঠপালিয়া এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর রায়ে তিনি মন্তব্য করেন, “এই মামলার তদন্ত আদালতের বিবেককে নাড়া দেয়।” বিচারপতি কাঠপালিয়া আরও বলেন, তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র পুলিশ অফিসাররাও এই ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নজরদারি করেননি।

মনজিতের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেল প্রায় ছয় বছর ধরে জেলে বন্দী রয়েছেন, অথচ সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি কাকে হত্যা করেছেন, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। মিয়ানওয়ালি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে এক মহিলার খণ্ডবিখণ্ড দেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃতদেহটি সোনি ওরফে ছোটির বলে চিহ্নিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মনজিৎ কারকেত্তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু পরে জানা যায়, সোনি ওরফে ছোটি জীবিত রয়েছেন। ফলে মৃত মহিলার পরিচয় রহস্যেই থেকে যায়।

আদালত তাঁর রায়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “একজন মানুষের এমন নৃশংসভাবে মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু এত বছর পরও নিহত ব্যক্তির পরিচয় যখন মেলেনি, শুধুমাত্র সেই কারণে মনজিতের স্বাধীনতা আর কেড়ে নেওয়া যায় না।” আদালত আরও মন্তব্য করেন যে, যেখানে যাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল সেই ব্যক্তিই জীবিত, সেখানে ‘শেষবার দেখা গেছে’ তত্ত্বের মতো প্রমাণও অর্থহীন হয়ে যায়। তদন্তকারী সংস্থা পাঁচ-পাঁচটি চার্জশিট জমা দেওয়া সত্ত্বেও আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্তে প্রচুর গাফিলতি ছিল এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও যথাযথ supervision করেননি। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই দিল্লি হাই কোর্ট মনজিৎ কারকেত্তাকে জামিন প্রদান করেছে।