সেনাবাহিনীর উর্দি পরে সামনে আসে, কিন্তু খটকা লাগে এক প্রশ্নেই! এই অভিশপ্ত অধ্যায় কিভাবে হয় শুরু?

কাশ্মীরে ঠিক কবে শেষবার পর্যটকদের সরাসরি নিশানা করে জঙ্গিরা এমন ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল, তা বোধহয় সেখানকার বয়স্ক বাসিন্দাদেরও স্মৃতি হাতড়ে মনে করতে বেগ পেতে হবে। তাই গত ২২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখটি ভূস্বর্গের ইতিহাসে এক নতুন, কালো অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সেদিন পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকার একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থলের রিসর্টে সেনার পোশাকে ঢুকে জঙ্গিরা যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তার ভয়াবহতা শুনলে শিউরে উঠতে হয়।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন পর্যটক ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রথমে সেনাবাহিনীর উর্দি পরা কয়েকজন জঙ্গিকে রিসর্টের বাইরে, যেখানে পর্যটকরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তার কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এই এলাকায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহলদারি চলে, তাই তাঁদের দেখে পর্যটকরা নিজেদের আরও নিরাপদ মনে করেছিলেন এবং বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। সেনার বেশে থাকা ওই ব্যক্তিরা হঠাৎ কয়েকজন পর্যটককে কিছু প্রশ্ন করতে শুরু করে। পর্যটকদের কথায়, প্রশ্নগুলি অত্যন্ত আপত্তিজনক এবং সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় বহন করছিল। কয়েকজন পর্যটক এই ধরনের প্রশ্নে আপত্তি জানান। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সেনার পোশাকে থাকা জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে দেয়। রিসোর্টের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনার কয়েক মুহূর্ত পরই পাশের ঘন জঙ্গল থেকেও শুরু হয়ে যায় গুলিবর্ষণ। বোঝা যায়, জঙ্গলের গভীরে আরও কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে ছিল, যারা প্রথম দলটির হামলার অপেক্ষায় ছিল।

এই নৃশংস ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তদন্তে নেমেছে। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) ইতিমধ্যেই হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী তিন জঙ্গির প্রাথমিক স্কেচ প্রকাশ করেছে। এছাড়াও, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার জঙ্গির ছবি সামনে এসেছে। এদের মধ্যে দু’জন পাকিস্তানি এবং দু’জন স্থানীয় কাশ্মীরি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গেছে, এই চার জনই লস্কর-ই তৈবা (LeT) জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। ইতিমধ্যে তিন জঙ্গির নামও জানা গিয়েছে – আসিফ ফৌজি, সুলেমান শাহ এবং আবু তালহা। এই পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই তৈবার শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফোর্স’ (TRF)।