“১০ কোটি টাকা না দিলে তাঁরও বাবার মতোই পরিণতি হবে”, হুমকি পেলেন বাবা সিদ্দিকের ছেলে জিশান

এনসিপি নেতা এবং প্রয়াত বাবা সিদ্দিকির পুত্র জিশান সিদ্দিকির কাছে এল মৃত্যুর হুমকি ইমেল। গত বছর বাবা সিদ্দিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখনও দগদগে। এর মধ্যেই সোমবার জিশান নিজে জানিয়েছেন যে, তিনি কুখ্যাত ‘ডি কোম্পানি’র (পলাতক গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের সিন্ডিকেট) নাম করে ইমেইলের মাধ্যমে এই মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। ইমেলে তাঁর কাছে ১০ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে এবং সেই টাকা না দিলে তাঁরও বাবার মতোই পরিণতি হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জিশান সিদ্দিক একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এই হুমকি পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দু’দিন আগে, অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল তাঁর কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়ে প্রথম হুমকি ইমেইলটি আসে। প্রোফাইল ছবিতে দুটি গুলিসহ একটি বন্দুকের ছবি ছিল সেই ইমেইলে। প্রাথমিকভাবে তিনি এটিকে উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সোমবার (২২ এপ্রিল) ফের একই কথা মনে করিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় হুমকি ইমেলটি আসে। এরপরই বিষয়টি গুরুতর বুঝে তিনি পুলিশের কাছে যান এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়।
১৯ এপ্রিল পাওয়া ইমেইলটির বিষয়বস্তু ছিল আরও উদ্বেগজনক। সেখানে লেখা ছিল: “বাবা সিদ্দিকের মৃত্যুর পর লরেন্স বিষ্ণোই এর পিছনে আছে বলে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছিল, এটা দুঃখজনক। অন্য কেউ সেটা করেছিল কিন্তু সেটা অতীত। এখন আমি আপনার পরিবারের কাছ থেকে সুরক্ষার জন্য ১০ কোটি টাকা চাই এবং আপনার কাছে দুই দিন সময় আছে।” প্রেরক হুমকি দিয়ে আরও লেখেন, “দয়া করে পুলিশকে জড়াবেন না। এই ঘটনা আপনার সঙ্গেও ঘটতে পারে; তাই সাবধান থাকুন।” টাকা দেওয়ার জায়গা ও সময় পরে জানানো হবে বলেও ইমেলে উল্লেখ করা হয়। ইমেইল প্রাপককে এটি নিশ্চিত করতে বলা হয় এবং শেষে লেখা ছিল, ‘ডি-কোম্পানি’।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের নির্মল নগরে ছেলে জিশান সিদ্দিকের অফিসের কাছেই আততায়ীর গুলিতে নিহত হন এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিক। তিনজন আক্রমণকারী গুলি ছুড়েছিল এবং প্রধান গুলিবর্ষণকারী শিবকুমার গৌতমের ছ’টি রাউন্ডের মধ্যে তিনটি গুলি সিদ্দিকের দেহের উপরের অংশে লেগেছিল। লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ২৭ জন অভিযুক্ত বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে। পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই অনমল বিষ্ণোই এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিল। যদিও জিশান সিদ্দিক এর আগে অভিযোগ করেছেন যে, বান্দ্রার বস্তি পুনর্বাসন প্রকল্পে জড়িত কিছু প্রভাবশালী প্রোমোটার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকতে পারে।
বাবার নৃশংস মৃত্যুর মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই জিশান সিদ্দিকের কাছে ‘ডি কোম্পানি’র নামে এমন হুমকি ইমেল স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।