কর্ণাটকে এসএসএলসি পরীক্ষায় অভিনব ‘ঘুষ’! ৫০০ টাকার নোট সেঁটে কাতর মিনতি পরীক্ষার্থীদের

কর্ণাটকে চলমান এসএসএলসি পরীক্ষায় এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেল। উত্তর লেখার বদলে বহু পরীক্ষার্থী তাদের খাতায় ৫০০ টাকার নোট আটকে দিয়েছে! শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে কয়েক লাইনের আকুতিপূর্ণ বার্তা। পরীক্ষকদের চোখ কপালে উঠেছে এমন অভাবনীয় ‘দাবি’ দেখে।
কী এমন লিখছে পড়ুয়ারা? কেনই বা তারা উত্তর ছেড়ে সরাসরি ৫০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিচ্ছে শিক্ষকদের?
জানা যাচ্ছে, এই ৫০০ টাকা আসলে ‘ডিল’-এর প্রস্তাব। খাতার মধ্যে ৫০০ টাকার নোট রেখে পরীক্ষকদের কাছে কাতর অনুরোধ জানানো হয়েছে, যে কোনও উপায়ে যেন তাদের পরীক্ষায় পাশ করানো হয়।
কেউ লিখেছে, “এই পরীক্ষায় পাশ না করলে বাড়ির লোকজন আমাকে কলেজে পাঠাবে না। সেটা তো আর হতে পারে না। আমার কলেজ যাওয়াটা খুব দরকার। তাই দয়া করে আমাকে পাশ করিয়ে দিন।”
সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, বেলাগাভির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের এই অদ্ভুত দাবির সমর্থনে নানা যুক্তিও দিয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষকের কাছে জানিয়েছে আন্তরিক আবেদন।
এক পরীক্ষার্থী লিখেছে, “এই পরীক্ষায় আমার পাশ-ফেলের উপর নির্ভর করছে আমার সম্পর্ক। যদি আমি পাশ করি, তবেই আমার প্রেম টিকে থাকবে।” আবার কেউ লিখেছে, “এই ৫০০ টাকা দিয়ে চা খাবেন, দয়া করে আমাকে পাশ করিয়ে দিন।” এখানেই শেষ নয়, একজন পরীক্ষার্থী তো আরও বেশি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। খাতার পাতায় সে লিখেছে, “আমাকে পাশ করালে আমি আপনাকে টাকা দেব।”
পরীক্ষার খাতায় এমন অপ্রত্যাশিত ‘উপহার’ এবং আবেগপূর্ণ বার্তা দেখে শিক্ষকরা হতবাক। প্রশ্ন উঠছে, পরীক্ষায় ভালো ফল করার পরিবর্তে কেন এমন পথ বেছে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা? এই ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন অনেকে।
কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে কর্ণাটকের শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।