“কেঁদে ভাসিয়েছিল সকলের সামনে”-খুন করে স্বামীর দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখলো স্ত্রী

উত্তরপ্রদেশে পরকীয়া ও স্বামীকে হত্যার ঘটনা যেন থামছেই না। মিরাটে পরপর দুটি নৃশংস ঘটনার পর এবার বরেলিতে ঘটল আরও এক ভয়াবহ কাণ্ড। অভিযোগ, ২৫ বছর বয়সি রেখা নামে এক মহিলা তার প্রেমিক পিন্টুর সঙ্গে মিলে ৩৫ বছর বয়সি স্বামী কেহর পাল সিংকে প্রথমে বিষ প্রয়োগ করে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে তারা। শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল বরেলির ঠাকুরদ্বারা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
নিহত কেহর পাল সিং বরেলি জেলার আলিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং ফতেহগঞ্জ পশ্চিম টাউন কাউন্সিলের চুক্তিভিত্তিক সাফাই কর্মী ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল আলিগঞ্জের বাড়িতে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রেখা প্রথমে তার স্বামীর চায়ে ইঁদুর মারার বিষ মিশিয়ে দেয়। এরপর সে প্রেমিক পিন্টুকে ফোন করে। পিন্টু আসার পর দুজনে মিলে কেহর সিংকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারাই কেহরের দেহ সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলিয়ে দেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিন্টু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং রেখা ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। তার কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বিকেল ৫টা নাগাদ ঘরের ভিতর কেহর সিংয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় এবং পুলিশে খবর দেয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশসহ সকলেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই ধরে নিয়েছিল। তবে মৃতের দাদা অশোক কুমারের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনিই রেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অশোক জানান, ১৬ বছর আগে রেখার সঙ্গে তার ভাইয়ের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি রেখার এক মেডিকেল কলেজের রাঁধুনি পিন্টুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা জানতে পেরেছিলেন কেহর সিং। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকেশ চন্দ্র মিশ্র জানান, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে স্পষ্টতই শ্বাসরোধ করে মৃত্যুর উল্লেখ রয়েছে। ঘর ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও, ডাক্তাররা মৃতের পাকস্থলীতে বিষের উপস্থিতি পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভিসেরা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশি জেরার মুখে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে রেখা তার স্বামীর চায়ে ইঁদুর মারার বিষ মেশানোর কথা স্বীকার করেছে। তবে সে তার স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা বা দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে। তার দাবি, কেহর সিং নিজেই ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেছেন।
কীভাবে ঘর ভিতর থেকে তালাবন্ধ ছিল, তা এখনও পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে রেখা এবং পিন্টুর বিরুদ্ধে ফতেহগঞ্জ পশ্চিম থানায় একটি হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল এখনও আসেনি। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শুক্রবার অভিযুক্তদের ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে মিরাটে স্ত্রী ও প্রেমিকের হাতে স্বামী হত্যার দুটি নৃশংস ঘটনা সামনে এসেছিল। এবার বরেলির এই ঘটনা ফের উত্তরপ্রদেশের পারিবারিক সম্পর্কের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরল।