“প্যানিক বাটন কাজই করে না, এই ধরনের বাটন রাখার মানে হয় না”-রিনিউয়ে নারাজ বাস সংগঠন

রাজ্যে সম্প্রতি ভেহিকেল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস (ভিএলটিডি)-র পুনর্নবীকরণ নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত গাড়িকে ভিএলটিডি পুনর্নবীকরণ করতে হবে। আট বছরের কম পুরনো গাড়িগুলির ক্ষেত্রে দু’বছরের জন্য এবং আট বছরের বেশি পুরনো গাড়িগুলির ক্ষেত্রে প্রতি বছর এই পুনর্নবীকরণ আবশ্যিক। এর জন্য বছরে ২০০০ টাকা খরচ ধার্য করা হয়েছে।

এই নির্দেশিকা প্রকাশের পরেই বাস মালিক সংগঠন এবং ক্যাব সংগঠনের প্রতিনিধিরা এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে প্যানিক বাটন টিপে দেখা গিয়েছে, পুলিশ বা পরিবহণ দপ্তর—কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা যায়নি। যেখানে পুরো ব্যবস্থাটিই কার্যত অকার্যকর, সেখানে এই ধরনের বাটন রাখার কোনও অর্থ নেই। ফলস্বরূপ, পুনর্নবীকরণেরও কোনও প্রয়োজন নেই বলে তাঁরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রায় দু’বছর আগে বাস ও ক্যাবে ভিএলটিডি যন্ত্র বসানোর নির্দেশ দিয়েছিল পরিবহণ দপ্তর। এই ব্যবস্থায় প্যানিক বাটন টিপলে পরিবহণ দপ্তরের ‘কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’-এর বড় পর্দায় ওই গাড়ির সঠিক অবস্থান জানার কথা দপ্তর আধিকারিকদের। এরপর তাঁদের মাধ্যমে সেই খবর কলকাতা পুলিশের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম’ (ইআরএসএস)-এ পৌঁছনোর কথা। ইআরএসএস গাড়ির অবস্থান ট্র্যাক করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই ছিল নিয়ম।

অল বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “পুরো ব্যবস্থা যদি ঠিকঠাক কাজ করত, তাহলে আমাদের টাকা দিতে কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু যে সিস্টেম প্রয়োজনের সময় কাজে লাগছে না, তার জন্য টাকা দিতে বাস মালিকদের অনেকেই রাজি নন। আমরা পরিবহণ দপ্তরের কর্তাদের কাছে আমাদের এই আপত্তির কথা জানিয়েছি।”

কেন কাজ করছে না ভিএলটিডি?

পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকরা অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। নিয়মিতভাবেই ভিএলটিডি-র মাধ্যমে অভিযোগ আসে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও করা হয়। হয়তো কিছু বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত কারণে প্যানিক বাটন কাজ করেনি।

তবে, গণপরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, করোনা-পরবর্তী সময়ে একদিকে যেমন জ্বালানির খরচ বেড়েছে, তেমনই যাত্রী সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকারকে বাড়তি টাকা দেওয়ার বিপক্ষে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা।

অনলাইন ক্যাব অপারেটার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুর চড়িয়ে বলেন, “সিস্টেমকে প্রথমে ঠিক না করে শুধুমাত্র পুনর্নবীকরণের জন্য টাকা নেওয়া কোনওভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। আমরা এই বিষয়টি পরিবহণ দপ্তরের কাছে তুলে ধরেছি।”

এই প্রসঙ্গে পরিবহণ দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যদি ব্যবসা করতে হয়, তাহলে সরকারি নিয়মকানুন মানতেই হবে।”