রামমন্দিরের CEO পদের ইন্টারভিউ, জেনেনিন কী কী প্রশ্ন করা হচ্ছে?

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই অন্তিম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। রাম মন্দিরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য দেশজুড়ে ৫,৩০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে মাত্র ১৮ জন যোগ্য প্রার্থীকে শর্টলিস্ট করা হয়। গত ১১ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া এই সাক্ষাৎকার পর্ব আজ, ১২ অগাস্ট সমাপ্ত হচ্ছে।

অযোধ্যা রাম মন্দির চত্বরের উত্তর অংশে অবস্থিত গ্রিন হাউসে এই হাই-প্রোফাইল ইন্টারভিউ পর্ব চলছে। এই পদের জন্য নির্বাচনী কমিটিতে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, প্রাক্তন বিজ্ঞানী ডঃ সুরেশ হাওড়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী।

প্রথম দিনের ইন্টারভিউ ও হেভিওয়েট প্রার্থীরা

প্রথম দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার চারজন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক, একজন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এবং চারজন প্রাক্তন সামরিক ও শিক্ষা আধিকারিকসহ মোট ১০ জন প্রার্থী মুখোমুখি ইন্টারভিউতে অংশ নেন। দুটি সেশনে চলা এই সাক্ষাৎকারে প্রতিটি প্রার্থীর সঙ্গে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ধরে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং মাফিয়া শ্রীপ্রকাশ শুক্লার এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ পাণ্ডে। বর্তমানে তিনি লখনউয়ের হনুমান মন্দিরের সচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এছাড়াও, ফৈজাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক যোগেশ্বর মিশ্রের নাম নিয়েও জোর চর্চা চলছে।

ইন্টারভিউতে করা হচ্ছে কোন ধরনের প্রশ্ন?

প্রার্থীদের মেধা, প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় বিশ্বাসের গভীরতা যাচাই করতে বেশ কিছু কৌতূহলজনক প্রশ্ন করা হচ্ছে। ইন্টারভিউর আগে তিন ডজন প্রশ্ন সম্বলিত একটি অনলাইন গুগল ফর্ম পূরণ করানো হয়েছিল। মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে প্রার্থীদের কাছে যে বিষয়গুলি জানতে চাওয়া হচ্ছে—

  • প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয়-সামাজিক সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা।

  • রাম মন্দির ও ভগবান শ্রীরামের প্রতি প্রার্থীর বিশ্বাসের গভীরতা।

  • প্রার্থী নিরামিষাশী না আমিষভোজী, তিনি টিকি (চুলের গোছা) ও পৈতা রাখেন কি না।

  • মদ্যপান করেন কি না এবং হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী পোশাক পরিধান করেন কি না।

  • বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভিড় ম্যানেজমেন্ট (Crowd Management) সামলানোর পরিকল্পনা।

কবে ঘোষণা হবে নতুন CEO-র নাম?

রাম মন্দিরে তহবিল সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পরই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিটিকে আগামী ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাম টেম্পল ট্রাস্টের কাছে সেরাদের সেরা তিনজন প্রার্থীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা (Shortlist) জমা দিতে হবে। এরপর ট্রাস্টের কার্যনির্বাহী কমিটি এই তিনজনের মধ্যে থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে রাম মন্দিরের প্রথম CEO হিসেবে ঘোষণা করবে। নির্বাচিত এই শীর্ষ কর্মকর্তা মন্দিরের প্রশাসনিক, আর্থিক, আইনি, নিরাপত্তা ও ভক্তদের সুযোগ-সুবিধার যাবতীয় ব্যবস্থার প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *