দেড় বছর ধরে বেহাল দমদম রোড! কবে সারাই হবে ব্যস্ততম এই রাস্তা? মুখ খুললেন বিধায়ক

বিটি রোড ও যশোর রোডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল দমদম রোড। এই ব্যস্ততম রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত বাস, লরি, ছোট গাড়ি, বাইক, অটো ও টোটোর মতো হাজার হাজার যানবাহন যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এই রাস্তার বেহাল দশায় নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দমদম স্টেশন থেকে চিড়িয়া মোড় পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ এখন চরমে।
রাস্তার নিচে বড় বড় পাইপ বসানোর কাজ চলার পর থেকেই এই বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। দিকে দিকে খানাখন্দ, আর সামান্য বৃষ্টিতেই সেই গর্তে জল জমে নিত্যদিনের ভোগান্তি পরিণত হয়েছে মারাত্মক বিপদে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে, বাইক থেকে পড়ে গিয়ে চোট পাচ্ছেন কচিকাঁচা ও মহিলারাও।
কী বলছেন বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি?
এলাকাবাসীর এই তীব্র ক্ষোভ ও যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে bangla.aajtak.in-এর মুখোমুখি হন কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি। তিনি জানান, কলকাতা কর্পোরেশনের ডিজির (সিউয়ারেজ এবং ড্রেনেজ) সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল এবং তাঁকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে দমদম রোডের কাজ সম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
পরবর্তীতে ফলোআপ মিটিংয়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সৈকত সাহাকে পাঠানো হলেও কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিকদের মধ্যে সেই চেনা আমলাতান্ত্রিক মনোভাব অর্থাৎ “আজ নয় কাল” করার মানসিকতাই কাজ করছে। এই গোটা বিষয়ে কর্পোরেশনের আধিকারিকদের কার্যকলাপে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং অদৃশ্য শক্তির তত্ত্ব
কর্পোরেশনের কাজের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিতেশ তিওয়ারি বলেন, বারবার বলার পরও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কেন কর্পোরেশন সঠিক সময়ে কাজ করতে পারছে না, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। এর নেপথ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো অংশের ইন্ধন রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত সাপেক্ষ বলে দাবি করেন তিনি। যদিও তাঁর নিজের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এক্তিয়ার নেই, তবে পুরো বিষয়টি তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
দমদমবাসীর ধৈর্যকে কুর্নিশ
রাস্তার বেহাল দশার কারণে বিগত ১৬ মাস ধরে সাধারণ মানুষ যে অকথ্য যন্ত্রণা সহ্য করছেন, তার জন্য দমদমবাসীকে প্রণাম জানিয়েছেন বিধায়ক। তবে এতকিছুর পরেও এই রাস্তা নির্দিষ্ট কবে নাগাদ সম্পূর্ণভাবে চলাচলের উপযুক্ত হবে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনও দিনক্ষণ জানাতে পারেননি তিনি।