চা শিল্পের স্বার্থে উত্তরবঙ্গে আরও ২০টি নতুন আবহাওয়া স্টেশন স্থাপন করলো মৌসম ভবনে

চা শিল্পের জন্য বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতার গুরুত্ব অপরিসীম। এই বিষয়টি মাথায় রেখে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় আরও ২০টি নতুন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্টেশন স্থাপন করল ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি)। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে দার্জিলিং এবং কালিম্পং পাহাড়ি এলাকায় আরও ১০টি নতুন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে আইএমডি সূত্রে খবর।
আইএমডির উত্তরবঙ্গের মুখপাত্র গোপীনাথ রাহা এই উদ্যোগের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘নতুন আবহাওয়া স্টেশনগুলি বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করবে। এই তথ্য শুধু বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস ও মোকাবিলার জন্যই সহায়ক নয়, চা শিল্পের উন্নতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
জানা গিয়েছে, আইএমডির ১৫০ তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে গত বছর এই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছিল। মোট ৫০টি আবহাওয়া স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে ৩০টি স্টেশন গত বছরই স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকি ২০টি গত মার্চ মাসে চালু হয়েছে।
আরও সুনির্দিষ্ট এবং স্থানীয় আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে অসম, ভুটান এবং কালিম্পং পাহাড়ের সীমান্তবর্তী ডুয়ার্স অঞ্চলের পাদদেশে এই স্টেশনগুলি স্থাপন করা হয়েছে। আগে এই অঞ্চলের আবহাওয়ার আপডেট মূলত প্রধান শহরগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। তবে নতুন স্টেশন স্থাপনের ফলে চা অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিও এই নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এর ফলে আবহাওয়া দফতর ওই সমস্ত অঞ্চলে আবহাওয়া সম্পর্কিত রিয়েল টাইম তথ্য প্রদান করতে পারবে। এই তথ্য শুধুমাত্র চা বাগানের জন্যই নয়, স্থানীয় কৃষকদের জন্যও অত্যন্ত উপকারী হবে।
কনসালটেটিভ কমিটি ফর প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিসিপিএ)-এর আহ্বায়ক অমিতাংশু চক্রবর্তী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চা বাগানের জন্য বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতার সঠিক তথ্য অত্যন্ত জরুরি। এই আবহাওয়া স্টেশনগুলি এই অঞ্চলের কৃষকদের মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
আইএমডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দার্জিলিং এবং কালিম্পং পাহাড়ি এলাকায় আরও ১০টি আবহাওয়া স্টেশন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যেই নতুন স্থাপিত ২০টি স্টেশন থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সংগ্রহ শুরু হয়ে গিয়েছে। জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও ভুটান সীমান্তে ইংডং, জুরন্তী, ওয়াশাবাড়ি, লিসরিভার, হিলা, গাঠিয়া, গুডহোপ, গয়েরকাটা, গ্যান্দ্রাপাড়া, গুরজংঝোরা, ডায়না প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ চা বাগানগুলিতে এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলি স্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ উত্তরবঙ্গের চা শিল্প এবং কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।