“চাকরিতে বীতশ্রদ্ধ জীবন!”-টয়লেট পেপারে ইস্তফা দিলেন কর্মী, বিতর্কের ঝড় তুললেন তরুণী

চাকরি জীবনে তিক্ততা এলে ইস্তফা দেওয়ার কথা অনেকেই মনে মনে ভাবেন। কিন্তু সংসারের দায়, ঋণের বোঝা ইত্যাদি কারণে সেই ভাবনা বাস্তবায়িত করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে ওঠে। তবে যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষ যে কতটা অভিনব পন্থা অবলম্বন করতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ দিলেন সিঙ্গাপুরের এক কর্মী। তিনি রীতিমতো টয়লেট পেপারে চিঠি লিখে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিলেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, অফিসে তার সঙ্গে ঠিক একটি টয়লেট পেপারের মতোই ব্যবহার করা হয়েছে – তুচ্ছ, যখন প্রয়োজন ব্যবহার করো এবং তারপর ফেলে দাও!
ঘটনাটি সিঙ্গাপুরের একটি সংস্থার। কর্মী নিয়োগকারী একটি এজেন্ট সংস্থার ডিরেক্টর অ্যাঞ্জেলা ইয়েও এই ব্যতিক্রমী পদত্যাগপত্রের ছবি শেয়ার করেছেন। পেশাদারদের সামাজিক মাধ্যম লিঙ্কডইনে সেই রেজিগনেশন লেটারের ছবি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
টয়লেট পেপারে হাতে লেখা সেই ছোট্ট চিঠির মূল বার্তা ছিল, ‘এই কোম্পানি আমার সঙ্গে যে ব্যবহারটা করেছে, সেটা বোঝাতেই আমি এই ধরনের কাগজ ব্যবহার করেছি… আমি ইস্তফা দিলাম।’
অ্যাঞ্জেলা ইয়েও তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার এটা দেখে শুধু মনে হচ্ছে যে, একটি টয়লেট পেপারের যেমন কোনও মূল্য নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়, ঠিক তেমনই হয়তো অনুভব করেছিলেন ওই কর্মী। এই কথাগুলো আমাকে গভীরভাবে ভাবাচ্ছে।’
অ্যাঞ্জেলা ইয়েও-র সংস্থা মূলত বিভিন্ন কোম্পানির জন্য কর্মী খুঁজে দেওয়ার কাজ করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি কর্মীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনও কর্মীর সঙ্গে যাতে এমন অপমানজনক ব্যবহার না করা হয়, সে বিষয়ে সংস্থা এবং বসদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
লিঙ্কডইন ব্যবহারকারীদের অনেকেই এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে, তাদের কর্মজীবনেও এমন হতাশাজনক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে তাদের বেশিরভাগেরই পরামর্শ, এমন পরিস্থিতিতে সেই সংস্থায় কর্মরত থাকা অবস্থাতেই নতুন চাকরির সন্ধান করা বুদ্ধিমানের কাজ। টয়লেট পেপারে ইস্তফাপত্র লেখার এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তাদের প্রতি সংস্থার আচরণের গুরুত্ব আরও একবার সামনে নিয়ে এল।