TMC-র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা, মিছিলে একসঙ্গে পা মেলালেন BJP-র তিনমূর্তি

শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লড়াইয়ের বার্তাই নয়, সেই লড়াইয়ে যে বঙ্গ বিজেপির সমস্ত শিবির হাতে হাত মিলিয়ে শামিল হচ্ছে, সেই ছবিটাও স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতে চাইছে গেরুয়া শিবির। রবিবার নিয়োগ দুর্নীতি এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিজেপির মিছিলে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির তিন শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষকে।
কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলে নেতৃত্ব দেন এই তিন নেতা। বঙ্গ বিজেপির বর্ষীয়ান নেতারাও মনে করতে পারছেন না শেষ কবে এই তিনজনকে দলের কোনও প্রকাশ্য কর্মসূচিতে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। এদিন সুকান্ত, শুভেন্দু এবং দিলীপ একসুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই তিন নেতার ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতাদেরও এদিন পাশাপাশি ওই মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছেন, সুকান্ত, শুভেন্দু এবং দিলীপের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা मिटিয়ে ফেলতে। কারণ বঙ্গ বিজেপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে যে বাংলা থেকে তৃণমূলকে উৎখাত করা সম্ভব নয়, তা অমিত শাহরা বিলক্ষণ উপলব্ধি করেছেন। তবে এই কাজটি যে মোটেই সহজ নয়, তা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দিল্লি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির আসন কমার অন্যতম প্রধান কারণ যে রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, তাও শাহদের নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই সুকান্ত, শুভেন্দু এবং দিলীপকে একসূত্রে বাঁধতে সক্রিয় হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। যার ফলস্বরূপ সম্প্রতি দিল্লিতে সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে ফুল হাতে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যায় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত। এর কিছুদিন পরেই বিধানসভায় বিজেপির ঘরে একসঙ্গে বসে মধ্যাহ্নভোজন সারেন দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারী। এরপর রবিবার সুকান্ত, শুভেন্দু এবং দিলীপের একসঙ্গে মিছিলে হাঁটার মধ্যে যে একটি নির্দিষ্ট যোগসূত্র রয়েছে, তাতে দলের অনেকেরই সন্দেহ নেই।
রাজ্য বিজেপির এক পদাধিকারীর কথায়, ‘লোকসভা ভোটে আসানসোল দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর দিলীপ ঘোষ ঘুরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ী করেছিলেন। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না বলে প্রকাশ্যে সুকান্ত মজুমদারকে খোঁচা দিয়েছিলেন। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই দড়ি টানাটানির ছবিটা বদলানো জরুরি ছিল। ওঁরা তিনজন সচেতনভাবেই সেই ছবিটা বদলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।’
তবে বিজেপির অন্য একটি অংশের মতে, খুব শীঘ্রই দলের নতুন রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, নতুন সভাপতির নাম ঘোষণার পরে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেটা যাতে না হয়, তাই এখন থেকেই ঐক্যবদ্ধ বঙ্গ বিজেপির ছবি তুলে ধরার নির্দেশ সুকান্ত, শুভেন্দু এবং দিলীপকে দিয়েছেন অমিত শাহরা। দিন কয়েক আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের ধারণা, এবার পালা বাংলার। তবে এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সুকান্ত, শুভেন্দু এবং দিলীপ। তিনজনই ঐক্যবদ্ধ সুরে বলছেন, এ বিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেবেন।