ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২১, ‘জন্তুর দেশ’ বলে তোপ দাগলেন জেলেনস্কি

ফের রক্তাক্ত ইউক্রেন। রবিবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লাইমেনকো জানিয়েছেন, এই হামলায় কমপক্ষে ২১ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ইউক্রেন এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ঘটনার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার এই আক্রমণকে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই নারকীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেওয়া একটি নৃশংস কাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন। রাশিয়াকে ‘জন্তুর দেশ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগপূর্ণ পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, “শুধুমাত্র দানবরাই এমন জঘন্য কাজ করতে পারে। নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করা হয়েছে… তাও এমন একটি দিনে, যেদিন তারা উপাসনার জন্য গির্জায় যাচ্ছিল।” জেলেনস্কি একটি মর্মান্তিক ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে রাস্তায় সারি সারি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বহু বাস ও অন্যান্য যানবাহনও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লাইমেনকোর অভিযোগ, হামলাটি একটি জনবহুল রাস্তায় চালানো হয়েছে, যেখানে ঘটনার সময় বহু গাড়ি ও সাধারণ মানুষ চলাচল করছিলেন। তিনি এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, পাম সানডের মতো একটি পবিত্র দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, যার মূল লক্ষ্য ছিল সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটানো। যদিও এই হামলা নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।

এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, এই হামলার পর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন যদি এর পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।