“দুধ খাওয়ার পরই জানা গেল ছাগলের বাচ্চার আসল মালিক কে?”-দেখে অবাক হলেন পুলিশও

শনিবার কানপুরের কল্যাণপুর থানায় এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকলেন পুলিশকর্মী থেকে শুরু করে অভিযোগকারী সকলেই। ‘সমাধান দিবস’-এ আসা একটি অভিযোগ কার্যত হাসির খোরাক জোগানোর পাশাপাশি প্রমাণ করল মায়ের টান কতটা অমোঘ হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ছাগলের বাচ্চাকে কেন্দ্র করে। চন্দ্রা দেবী ও মীনা কুমারী নামের দুই মহিলা থানায় এসে দাবি করেন, সাদা-কালো রঙের ছাগলের বাচ্চাটি আসলে তাদেরই সন্তান। চন্দ্রা দেবীর ছাগলটি যেখানে ধবধবে সাদা, মীনা কুমারীর ছাগলটি ছিল কালো। ফলে বাচ্চাটির মিশ্র রঙ দেখে কেউই নিশ্চিত হতে পারছিলেন না আসল মা কে।
দুই মহিলার মধ্যে বিতর্ক চরমে উঠলে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাগল ও ছাগলের বাচ্চাসহ উভয়কে থানায় নিয়ে আসেন। কল্যাণপুর থানার ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার এই অভিনব ‘মা-সন্তান মামলা’ দেখে প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে যান। তবে দ্রুত তিনি একটি বুদ্ধিদীপ্ত সমাধানের পথ খোঁজেন। যেহেতু কথায় কোনও মীমাংসা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই তিনি পশুর স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকেই ‘বিচারক’ হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুটি ছাগলকে আলাদা স্থানে বেঁধে রাখা হয় এবং তাদের বাচ্চাটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্ত ছাগলের বাচ্চাটি কিছুক্ষণ ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়। তারপর সোজা গিয়ে দাঁড়ায় সাদা ছাগলটির কাছে এবং পরম স্নেহে তার দুধ পান করতে শুরু করে। এই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যায় বাচ্চাটির আসল মা কে। থানায় উপস্থিত সকলেই হাততালি দিয়ে ওঠেন।
ঘটনার অপ্রত্যাশিত মোড় দেখে মীনা কুমারী অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি জানান, কিছুদিন আগে তার একটি কালো-সাদা রঙের ছাগলের বাচ্চা হারিয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত সেই কারণেই তিনি ভুল করে এই বাচ্চাটিকে নিজের বলে দাবি করেছিলেন। চন্দ্রা দেবীও মীনার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তিনিও একই ভুল করতে পারতেন।
ঘটনার পরে ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার জানান, “বাচ্চা মানুষ হোক বা পশু, সে তার মাকে ঠিক চিনতে পারে – এই সহজ সত্যটিই এখানে কাজে লেগেছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা বিতর্কের জট ছাড়াতে না পেরে আমরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলাম, এবং এতে চমৎকার ফল পাওয়া গেছে।”
যদিও এই ঘটনাটি কোনও আইনি মামলা না হওয়ায় থানায় নথিভুক্ত করা হয়নি, তবে উপস্থিত সকলেই এই মানবিক এবং বুদ্ধিদীপ্ত সমাধানে অত্যন্ত খুশি হন এবং হাসিমুখে থানা ত্যাগ করেন। এই ঘটনা যেন বাস্তবের ‘সলোমনের বিচার’, যেখানে কেবল যুক্তি নয়, বুদ্ধি এবং সামান্য মানবিক অনুভূতিও ন্যায়বিচারের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।