“আমাদের শবদেহের উপর দিয়ে নির্বাচন করতে হবে”-সমাবেশের আগে চাকরিহারাদের হুঁশিয়ারি

কেন যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থীদের আলাদা করা গেল না? কেন ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ওএমআর শিটের ‘মিরর ইমেজ’ পাওয়া গেল না? রবিবার শহিদ মিনারের পাদদেশে একত্রিত হয়ে এমনই একগুচ্ছ প্রশ্ন তুললেন চাকরিহারা প্রার্থীদের একটি বড় অংশ। আগামীকাল, সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারা প্রার্থীদের ‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর উদ্যোগে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা। তার ঠিক আগে চাকরিহারা প্রার্থীদের স্পষ্ট বার্তা, ‘যোগ্যতার নিরিখে প্রাপ্ত চাকরি আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আমরা মানতে পারছি না।’

যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের আহ্বায়ক মেহবুব মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় চরম অসঙ্গতিপূর্ণ। আমরা অবশ্যই রিভিউ পিটিশন করব। তবে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এবং সরকারকে বলছি, আপনারা যদি আমাদের সমস্যার সমাধান না করেন, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমরা কাউকে লড়তে দেবো না। আমাদের শবদেহের উপর দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। বারুদ আমরা সংগ্রহ করে রেখেছি, শুধু আগুন লাগানোর অপেক্ষা।’

চাকরিহারাদের মঞ্চ থেকে অবিলম্বে সর্বদল বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে চাকরিহারা প্রার্থীরা ছাড়াও নতুন প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, এবং এই চাকরিহারাদের সমস্যার সমাধানে সরকার কোন পথ বেছে নেবে, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

চাকরিহারাদের মঞ্চের এক সদস্যের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট পরিশ্রম করে, পড়াশোনা করে চাকরি পেয়েছিলাম। আবার দশ বছর পর সেই একই পরীক্ষার জন্য বসতে হবে! পরীক্ষা দিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এই নির্দিষ্ট চাকরির জন্য আর পরীক্ষা দিতে পারব না। সরকার রি-প্যানেল করতে পারে। পূর্বে তৈরি করা প্যানেলের ভিত্তিতে কাউন্সেলিং করা যেতে পারে। কিন্তু নতুন করে সকল প্রার্থীকে নিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলে, তা আমরা মেনে নেব না।’

এসএসসি-র ২০১৬ সালের পরীক্ষার ওএমআর শিটের ‘মিরর ইমেজ’ কেন পাওয়া গেল না, সেই প্রশ্নও তোলেন চাকরিহারা প্রার্থীরা। তাঁদের মধ্যে একজন বলেন, ‘২০১৪ সালের আপার প্রাইমারি পরীক্ষার মিরর ইমেজ যদি থাকতে পারে, তাহলে ২০১৬ সালের পরীক্ষার কেন থাকবে না? মাটির তলা থেকে হলেও সেই মিরর ইমেজ খুঁজে বের করে আনা হোক।’

এসএসসি-র প্যানেল বাতিল নিয়ে রাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তবে চাকরিহারা প্রার্থীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তাঁদের এই চরম কষ্টের আবেগকে ব্যবহার করে কোনও রাজনৈতিক দল যেন ফায়দা তোলার চেষ্টা না করে। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধের স্বার্থে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সমাধান সূত্র খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন এই কর্মহারা প্রার্থীরা। এখন সকলের নজর থাকবে আগামীকাল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশে, যেখানে তিনি চাকরিহারাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বার্তা দেন।