সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মীনাক্ষী, বাংলা থেকে নতুন মুখ ৫, সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি

তামিলনাড়ুর মাদুরাইতে সমাপ্ত হল সিপিএমের ২৪তম পার্টি কংগ্রেস। রবিবার, কংগ্রেসের শেষ দিনে গঠিত হল দলের নতুন পলিটব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় কমিটি। এই কমিটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেল, বিশেষ করে বাংলা থেকে একাধিক নতুন মুখ উঠে এসেছেন।

বাম যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে বাংলা থেকে আরও চারজন নতুন মুখ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। এঁরা হলেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ, সমন পাঠক, দেবব্রত ঘোষ ও সৈয়দ হোসেন।

মীনাক্ষীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশিত ছিল, কারণ মাদুরাইয়ের পার্টি কংগ্রেসের জন্য গঠিত প্রেসিডিয়ামে তিনি জায়গা পেয়েছিলেন। সাধারণত, দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সারিতে যাঁদের তুলে আনা হয়, তাঁরাই এই প্রেসিডিয়ামে স্থান পান।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ৫ জন নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, রাজ্য থেকে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। বয়সের কারণে এবার কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বর্ষীয়ান নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, রবীন দেব ও রেখা গোস্বামী। আগে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার ১৩ জন সদস্য ছিলেন, তিনজন বাদ যাওয়ায় এবং পাঁচজন নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বর্তমানে বাংলার সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫। যদিও পলাশ দাস, কল্লোল মজুমদার, তাপস সিনহা, জামির মোল্লারাও দৌড়ে ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাননি। ৮৫ সদস্যের এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্য সিপিএমের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সিপিআইএম দলের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন কেরল সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী এম এ বেবি। সীতারাম ইয়েচুরির প্রয়াণের পর থেকে এই পদটি শূন্য ছিল। মাদুরাইয়ের পার্টি কংগ্রেসের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এম এ বেবির নাম অনুমোদিত হয়।

৭০ বছর বয়সী এম এ বেবি ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন। এরপর তিনি দলের যুব শাখা ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সিপিআইএম-এর রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে এম এ বেবির পাশাপাশি সর্বভারতীয় কিষাণ সভার সভাপতি অশোক ধাওয়ালের নামও উঠে এসেছিল।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এম এ বেবি কেরলের দ্বিতীয় নেতা যিনি সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ই এম নাম্বুদিরিপাদ এই পদে আসীন ছিলেন। পলিটব্যুরোর ১৬ জন সদস্যের মধ্যে ১১ জন এম এ বেবির নাম সমর্থন করেছিলেন। তিনি কেরলের কোল্লাম জেলার বাসিন্দা।

সূত্রের খবর, বয়সের মাপকাঠি পেরিয়ে গেলেও কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন পলিটব্যুরোতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। পলিটব্যুরোতে বাংলা থেকে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। এছাড়াও রাজস্থানের সাংসদ আমরা রাম, তামিলনাড়ুর ইউ বাসুকি এবং মরিয়ম ধাওলে পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ত্রিপুরা থেকে মানিক সরকারের পরিবর্তে পলিটব্যুরোতে এসেছেন দলের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। প্রকাশ কারাট, মানিক সরকার ও বৃন্দা কারাটকে পলিটব্যুরোর আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও কারা স্থান পাবেন, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।