রাম নবমীতে শুধু বাংলা নয়, ভারতের একাধিক রাজ্যে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি সতর্কতা

আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রামনবমী। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জোরদার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন তীর্থস্থানগুলিতে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ছে এবং সেখানে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। বহু জেলায় ডিজে, বাইক র‌্যালি এবং উস্কানিমূলক কার্যকলাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর মতো কঠোর ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। তীর্থস্থান ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ড্রোন ক্যামেরা ও সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে রামনবমী ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গে রামনবমী উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে শোভাযাত্রার অনুমতি দিলেও, রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। রবিবার রামনবমীর আগে বিজেপির পক্ষ থেকে শিলিগুড়িতে পতাকা বিতরণ, পোস্টার লাগানো এবং মিষ্টি তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারও উৎসবের শান্তি বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। রাজ্য জুড়ে ২০ হাজারের বেশি শোভাযাত্রা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। হুগলিতে তৃণমূল কংগ্রেস অস্ত্রবিহীন রাম-সীতার ছবি নিয়ে সংকীর্তন র‌্যালির পরিকল্পনা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত সাত বছর ধরে রামনবমী একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারের রূপ নিয়েছে। এ বছরও সেই উত্তেজনার এতটুকু কমতি নেই, বরং তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি মালদার মোথাবাড়িতে রামনবমীর র‌্যালির প্রস্তুতি ঘিরে যে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছে। এর পাল্টা হিসেবে হুগলিতে তৃণমূলের সংকীর্তন কর্মসূচিও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাওড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং কুইক রেসপন্স টিমকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অযোধ্যা সেজে উঠেছে, বিহার-মধ্যপ্রদেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা

রামের জন্মভূমি অযোধ্যায় রামনবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। রামলালার দরবার বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। সরযু নদীর তীরে ২ লক্ষ প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে। ভক্তদের উপর ড্রোন থেকে সরযুর পবিত্র জল ছিটিয়ে দেওয়া হবে। উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের ৪২টি জেলাকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।

বিহারের রাজধানী পাটনায় রামনবমীর শোভাযাত্রায় ডিজে ব্যবহারের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৬টি ডিজে সিস্টেম বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

মধ্যপ্রদেশের বড়ওয়ানিতে প্রশাসন কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করে জানিয়েছে যে, রামনবমীর শোভাযাত্রায় কোনও প্রকার অশান্তি সৃষ্টি করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (NSA)-এর মতো কঠিন ধারা প্রয়োগ করা হবে।

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন রামনবমীর শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি শান্তি কমিটির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যে বাইক র‌্যালি এবং ডিজে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে রামনবমী উপলক্ষে ১৩,৫০০-র বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ২০ জন ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP), ৫১ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ACP), ২,৫০০ পুলিশ অফিসার এবং ১১,০০০ কনস্টেবল। এছাড়াও, স্টেট রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (SRPF) ৯টি কোম্পানিকেও মোতায়েন করা হয়েছে।

দেশজুড়ে রামনবমী উৎসবের প্রাক্কালে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হল, কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা। তবে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই উৎসবকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে।