রামনবমীতে কলকাতাতেই রয়েছে ৬০ মিছিল, বাংলা জুড়ে কড়া নজরদারি থাকবে প্রশাসনের

রবিবার রামনবমী উদযাপন উপলক্ষ্যে কলকাতা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার পুলিশ কর্মী। রামনবমীর মিছিলগুলির গতিবিধির উপর বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, রামনবমীর বড় মিছিলগুলি যে সমস্ত রাস্তা দিয়ে যাবে, সেখানে তৈরি করা হয়েছে পুলিশ পিকেট। মিছিলের রুটে থাকবেন ডিসি, যুগ্ম কমিশনার, এসি, এবং জয়েন্ট সিপি-র মতো একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক। ওসি-দেরও নির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিটি বড় মিছিলের ভিডিওগ্রাফি করা হবে।
শুধু কলকাতাই নয়, রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দশটি জেলা ও পুলিশ কমিশনারেটকে ‘সংবেদনশীল’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসানসোল, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো এলাকাগুলিতেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এই সমস্ত এলাকায় শনিবার থেকেই মোট ২৯ জন আইপিএস অফিসারকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তারা সোমবার পর্যন্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন।
কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি কোনো ব্যক্তি অস্ত্র হাতে মিছিলে অংশ নেয়, তবে পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেবে। শহরের হেস্টিংস, এন্টালি, কাশীপুরের মতো যেসব জায়গায় বড় মিছিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন থাকবে। মিছিলের পাশাপাশি বাইকে করেও পুলিশ টহলদারি চালাবে। পুলিশের পক্ষ থেকে মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট চিহ্নিত করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র সেই রুটেই মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হবে। অন্য কোনো রুটে মিছিল করার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
গত বছর রামনবমীর দিনে কলকাতায় প্রায় ৬০টি মিছিল হয়েছিল। এবারও একই সংখ্যক মিছিলের আশঙ্কা থাকায় পুলিশ প্রশাসন আগে থেকেই জোরদার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি বড় মিছিলের রুটে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সেই ক্যামেরার ফুটেজ মনিটর করার জন্য পুলিশ আধিকারিকদের বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ কর্মীদের শরীরে বডিও ক্যাম লাগানো থাকবে।
রামনবমীকে কেন্দ্র করে বিজেপি সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন যেমন মিছিলের প্রস্তুতি নিয়েছে, তেমনই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও রাস্তায় নামছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কলকাতা ছাড়াও আসানসোল, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কাউন্সিলররা ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিলি করছেন।
মিছিলে অস্ত্র থাকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যদি নিয়ম মেনে মিছিল করা হয়, তবে তাতে কোনো আপত্তি নেই। তিনি পঞ্জাবিদের কৃপাণ বহনের উদাহরণ টেনে বলেন, নিয়ম মেনে চললে কেউ বাধা দেবে না। পুলিশ মন্ত্রী মমতা আরও বলেন, তাদের দলও মিছিল করে এবং তারা চান শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমীর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হোক।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য আজ দুপুর ১২টা নাগাদ লালবাজারে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে রামনবমীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।