আগাছায় ঢাকা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের মহানায়কের মূর্তি! স্বাধীনতা দিবসে কে নিলেন দায়িত্ব?

দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। যেখানে বীর বিপ্লবীদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানানোর কথা, ঠিক সেখানেই উদযাপনের আলো থেকে দূরে চরম অবহেলায় পড়ে রইল দেশমাতৃকার অন্যতম মুক্তিসূর্য মাস্টারদা সূর্য সেনের মূর্তি। এই ছবি সামনে আসতেই তীব্র হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্বাধীনতা দিবসেও চরম অবহেলায় মাস্টারদা
শনিবার সারা দেশের সঙ্গে দুর্গাপুর শহরও যখন তেরঙ্গা পতাকায় সেজে উঠেছিল, ঠিক তখনই শহরের দয়ানন্দ রোটারিতে ধরা পড়ে এক বিষণ্ণ ও লজ্জাজনক চিত্র। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের আবক্ষ মূর্তিটি বর্তমানে চরম অনাদরে পড়ে রয়েছে। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরীর হাত ধরে এই মূর্তিটি উন্মোচিত হয়েছিল।
কিন্তু আজ সেই মূর্তির গায়ের রং চটে গিয়েছে, আর চারপাশ ঢেকে গেছে আগাছায়। বিশেষ এই দিনেও মূর্তিতে একটি ফুল দেওয়ার মতো কেউ এগিয়ে না আসায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে এই বীর বিপ্লবীর স্মৃতিরক্ষা নিয়ে। পথচলতি মানুষের আক্ষেপ, মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে দায় সেরে ফেলা হলেও পরবর্তীতে কেউ আর খোঁজ রাখেন না।
যুব নেতার হস্তক্ষেপে প্রতিশ্রুতির আলো
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ছুটে যান স্থানীয় যুব নেতা তথা সমাজকর্মী পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বীর বিপ্লবীর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি তিনি অঙ্গীকার করেন যে, এখন থেকে এই ঐতিহাসিক মূর্তিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাঁরা নিজের কাঁধে তুলে নেবেন। সারাবছর যাতে মূর্তিটির নিয়মিত দেখভাল করা হয়, সেই ব্যক্তিগত দায়িত্বও নেন তিনি।
তবে কেবল সাময়িক আশ্বাসে দায় মেটে না বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা সাময়িক খ্যাতির আশায় যারা মনীষীদের মূর্তি স্থাপন করেন, তাঁদের দায়বদ্ধতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূর্তি প্রতিষ্ঠার পর তা অবহেলায় ফেলে রাখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। অন্যথায় কালপরিক্রমায় দেশের ইতিহাস ও বিপ্লবীদের বলিদান এভাবে অবহেলার আড়ালেই হারিয়ে যাবে।