চিপ তৈরিতে বিপ্লব আনতে চলেছে ভারত! আগামী কটি বছরে আসছে একের পর এক মেগা প্ল্যান্ট?

আগামী সাত থেকে আট বছরের মধ্যে ভারতে আরও পাঁচ থেকে আটটি নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট চালু হতে পারে বলে ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের মাটিতে নিজস্ব চিপ তৈরির ক্ষমতা বাড়ানোর উপর বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর মতে, আত্মনির্ভরতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এটি হতে চলেছে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

আত্মনির্ভরতার পথে ভারতের বড় লাফ

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে ইতিমধ্যেই তিনটি বড় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বর্তমান যুগে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা—সবকিছুর জন্যই সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে ভারত এখন নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর তৈরির ক্ষমতা অর্জন করতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, দেশে চিপ উৎপাদন বাড়লে তা উন্নত ভারত গড়ার পথে এক ‘বিরাট হাইওয়ে’ তৈরি করবে। বিশ্বজুড়ে নানা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিদেশি সরবরাহের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ও শক্তি সুরক্ষায় বিশেষ নজর

ভাষণে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পুরো প্রযুক্তি শিল্পই এই খনিজগুলির উপর নির্ভরশীল। ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিশন’ এবং বাজেটে ঘোষিত ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস করিডোর’-এর মাধ্যমে এর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এই খনিজগুলি অর্জনের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে ভারত, এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিও এখন এই বিষয়ে ভারতের উপর ভরসা রাখতে শুরু করেছে।

পাশাপাশি, ভবিষ্যতের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টর এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের পাশাপাশি শক্তি সুরক্ষাও সমান জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। কারণ, চিপ উৎপাদন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ভবিষ্যতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে।

উৎপাদন ও উদ্ভাবনের আন্তর্জাতিক হাব হওয়ার লক্ষ্য

ভারত এখন কেবল উন্নত প্রযুক্তির বিশাল বাজার হয়ে থাকতে চায় না, বরং বিশ্বমানের উৎপাদন ও উদ্ভাবনের একটি প্রধান কেন্দ্র বা হাবে পরিণত হতে চায়। সরকারের ‘সপ্তধারা’ বা উন্নয়নের সাতটি প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনকে শীর্ষস্থান দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রাংশ ও আধুনিক ডিজাইন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পণ্য তৈরি পর্যন্ত—গোটা ভ্যালু চেইন জুড়েই ভারতকে আত্মনির্ভর করে তুলতে চাইছে কেন্দ্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *