পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করলেন ৫৫বছরের স্বামী, থানায় গিয়ে নিজেই করলেন আত্মসমর্পণ

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ, আর সেই সন্দেহই পরিণত হল ভয়ঙ্কর এক হত্যাকাণ্ডে। নয়ডার সেক্টর ১৫-এ নিজ স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করলেন বছর ৫৫-র এক ব্যক্তি। নুরুল্লাহ হায়দার নামে ওই অভিযুক্ত হাতুড়ি ও ছুরি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে স্ত্রী আসমাকে হত্যা করেন। ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
জানা গিয়েছে, ওই দিন সকালে স্বামীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন আসমা। সেসময় ঘরে উপস্থিত ছিলেন আসমার মা ও আত্মীয়রা। তাদের সামনেই শুরু হয় উত্তপ্ত বাদানুবাদ। এরপর সবাই নিজ নিজ ঘরে চলে গেলে বিকেল নাগাদ নুরুল্লাহ ছুরি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন স্ত্রীর মাথা ও মুখে। আঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, নিহতার মুখ পর্যন্ত চেনা যাচ্ছিল না। গলায় ছুরির চিহ্নও পাওয়া গেছে।
আসমার ১৯ বছরের ছেলে জানিয়েছে, সে মাকে বলেছিল বাড়ি ছেড়ে দিদার বাড়ি যাওয়ার জন্য, কিন্তু মা রাজি হননি। ছেলে-সহ প্রতিবেশীরা এই নির্মম ঘটনায় স্তম্ভিত।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আসমা ছিলেন একজন দক্ষ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং নয়ডার সেক্টর ৬২-তে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে স্বামী নুরুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন ছিলেন। জানা গিয়েছে, স্ত্রীর পেশাগত সাফল্য ও স্বাধীনতা তার মধ্যে হীনমন্যতা ও সন্দেহের জন্ম দেয়।
এক বছর আগে একটি ফোন কল থেকে নুরুল্লাহর সন্দেহ শুরু হয় যে, আসমার অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এরপর থেকেই দাম্পত্যে অশান্তি লেগেই থাকত। এই সন্দেহই শেষপর্যন্ত মৃত্যু ডেকে আনে আসমার জীবনে।
ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা সেক্টর-২০ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন নুরুল্লাহ। যদিও ঘটনাস্থল ফেজ ওয়ান থানা এলাকার অন্তর্গত। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় মহিলার দেহ রক্তে ভিজে গিয়েছিল এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
২০০৫ সালে দিল্লির জামিয়া নগরের বাসিন্দা আসমার সঙ্গে বিহারের চম্পারণের নুরুল্লাহর বিয়ে হয়। তাঁরা সি ব্লকের একটি তিনতলা বাড়িতে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আসমা ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও দায়িত্ববান। নিজের পরিবার ও সমাজের প্রতি একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলা এই নারীর জীবনের এমন পরিণতি সকলকে শোকাহত করেছে।