OMG! মাথা ঠুকে ঠুকে বোনকে খুন, সঙ্গ দিল মা-বাবাও, অবশেষে গ্রেফতার ভাই

প্রেমের পরিণতি যে এত ভয়াবহ হতে পারে, তা বোধহয় ভাবতেও পারেননি বিদ্যা (২২)। অসবর্ণে প্রেম করার ‘অপরাধে’ নিজের ভাইয়ের হাতেই খুন হতে হল তাঁকে। শুধু তাই নয়, এই নৃশংস কাণ্ডে সঙ্গ দিয়েছে বিদ্যার মা-বাবাও। প্রথমে বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভারী আসবাবপত্র পড়ে যাওয়ার গল্প ফেঁদেছিল ভাই। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বিদ্যার প্রেমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে আসল সত্যিটা জানতে পারে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত ভাই সারাভানকে।
ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর পারুভাই এলাকায়। বিদ্যা স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী ছিলেন এবং বাড়িতে মা-বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গেই থাকতেন। তবে, অন্য বর্ণের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বিদ্যা। এই সম্পর্ক বিদ্যার পরিবারের সদস্যরা মেনে নিতে পারেননি এবং তা নিয়ে বাড়িতে প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত।
গত ৩০ মার্চ বিদ্যাকে তাঁর বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিদ্যার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানায়, সেদিন তারা চার্চে গিয়েছিল এবং ভাই সারাভানও বাড়ির বাইরে ছিল। বাড়িতে একাই ছিলেন বিদ্যা। তাদের দাবি ছিল, বিদ্যার মাথায় আঘাত লাগে এবং সম্ভবত তাঁর গায়ে ভারী কোনও আসবাবপত্র পড়ে যায়। দ্রুত বিদ্য়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে না জানিয়ে তড়িঘড়ি বিদ্যার দেহ কবরও দিয়ে দেওয়া হয়। তবে, ঘটনার মোড় ঘোরে যখন বিদ্যার প্রেমিক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরেও আসে। এরপর কবর থেকে বিদ্যার দেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট জানা যায়, বিদ্যার মাথায় একাধিকবার আঘাত করে খুন করা হয়েছে। ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। শরীরের অন্যান্য অংশেও আঘাতের প্রমাণ মেলে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুলিশ বিদ্যার ভাই সারাভানকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে বিদ্যার মা-বাবা পুলিশকে জানান, সারাভানই লোহার রড দিয়ে একাধিকবার বিদ্যার মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করেছে। তারা আরও জানায়, ভিন্ন বর্ণের ছেলেকে বিয়ে করতে চাওয়ায় বিদ্যাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে তার ভাই। এই ঘটনায় বিদ্যার মা-বাবার ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অসবর্ণ প্রেমের কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্তম্ভিত করেছে এলাকাবাসীকে।