টয় ট্রেনের ধাক্কায় নবম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু, বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা

কানে ইয়ারপড গুঁজে রেললাইনে হাঁটার মর্মান্তিক পরিণতি। টয় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত কার্শিয়াংয়ের সেন্ট জোসেফ স্কুল ফর গার্লসের নবম শ্রেণির ছাত্রী রোশনি রাইয়ের (১৫) উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাতেই মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার সময় কার্শিয়াং বাজারের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রোশনি বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিল এবং অসাবধানতাবশত রেললাইনের উপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, টয় ট্রেনের চালক তাকে বিপজ্জনকভাবে লাইনের পাশে হাঁটতে দেখে একাধিকবার হুইসেল বাজিয়েছিলেন, কিন্তু কানে ইয়ারপড থাকার কারণে রোশনি সেই আওয়াজ শুনতে পায়নি। দ্রুত গতিতে আসা টয় ট্রেন সজোরে ধাক্কা মারলে গুরুতর আহত হয় সে।
সোমবার রাতেই রোশনির মৃত্যুর খবর পৌঁছালে মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্শিয়াংয়ের স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা কার্শিয়াং রেল স্টেশনে ধর্নায় বসে চালকের গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, চালক কেন মেয়েটিকে দেখতে পেয়েও ট্রেন থামাননি? তাদের অভিযোগ, টয় ট্রেনের গতি সাধারণত কম থাকে, তাই চালকের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রেল আধিকারিকেরা GTA (গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এর চিফের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। GTA-র পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ইয়ারপড কানে থাকার কারণেই ছাত্রীটি ট্রেনের হুইসেল শুনতে পায়নি এবং বিপজ্জনকভাবে রেললাইনের উপর চলে আসে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, চালক মেয়েটিকে দেখার পরেও দ্রুত গতিতে ট্রেন চালিয়ে যান, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
এদিকে, মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মঙ্গলবার সকাল থেকে দার্জিলিংয়ের জয় রাইড-সহ সমস্ত টয় ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। কার্শিয়াং জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।