“হানিমুনে গিয়ে চেনা স্বামী হয়ে গেল অচেনা?”-শ্বশুরবাড়ির সামনে ধর্নায় বসলেন নববধূ

বিয়ের মাস না পেরোতেই পণ দাবির অভিযোগ! ন্যায়বিচারের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির দরজায় ধর্নায় বসেছেন মুজাফফরনগরের বাসিন্দা শালিনী সাঙ্গাল। মাসখানেক আগেই প্রণব সিংগালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। মধুচন্দ্রিমার জন্য ইন্দোনেশিয়ার বালিতে গিয়েছিলেন নবদম্পতি। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই শালিনীর অভিযোগ, তার স্বামী আচমকা তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং ৫০ লক্ষ টাকা পণ দাবি করেন।
শালিনীর দাবি অনুযায়ী, বালিতে থাকাকালীন স্বামী প্রণব অভিযোগ করেন যে তাদের বিয়ে এবং মধুচন্দ্রিমায় প্রচুর অর্থ খরচ হয়েছে, যা পূরণ করার জন্য শালিনীকে তার বাবার কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা এনে দিতে হবে। শালিনী এই অন্যায় আবদার প্রত্যাখ্যান করলে, দেশে ফেরার পর শ্বশুরবাড়িতে তার প্রতি চরম অবহেলা ও দুর্ব্যবহার শুরু হয়। তার উপর মানসিক নির্যাতন চালানো হতে থাকে।
শালিনী জানান, শেষমেশ হোলির দিন তাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয় এটি নাকি তাদের পারিবারিক রীতি। কিন্তু এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির কেউ আর তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেনি। বাধ্য হয়ে শালিনী নিজেই শ্বশুরবাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন, কিন্তু তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে, শালিনী তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির বাইরে ন্যায়বিচারের দাবিতে ধর্নায় বসেছেন। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। শালিনী এবং তার পরিবারের সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি তারা ন্যায়বিচার না পান, তাহলে তারা চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগ দায়ের করা হলেই তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পণপ্রথার কুফল আবারও প্রকটভাবে সামনে এসেছে।