নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া মারিঁ ল্য পেনের উপর, কারাদণ্ডেরও নির্দেশ

ফ্রান্সের একটি আদালত সে দেশের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালি পার্টির নেত্রী মারিঁ ল্য পেনকে দোষী সাব্যস্ত করে কঠোর শাস্তি ঘোষণা করেছে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সংসদীয় সহকারীদের জন্য বরাদ্দ তিন মিলিয়ন ইউরো দলের রাজনৈতিক কাজে ব্যয় করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে ল্য পেনকে আগামী পাঁচ বছর কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ, যদি তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জয়ী না হন, তাহলে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা ফরাসি রাজনীতিতে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ল্য পেন ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
শুধু তাই নয়, আদালত ল্য পেনকে চার বছরের কারাদণ্ডও দিয়েছে। তবে, এর মধ্যে দুই বছর স্থগিত কারাদণ্ড এবং বাকি দুই বছর তিনি গৃহবন্দি থাকবেন। গৃহবন্দি থাকার সময় তাকে ইলেক্ট্রনিক ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের বরাদ্দ করা অর্থ ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দলের বিভিন্ন সদস্যদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী ল্য পেন শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তিনি এই মামলাটিকে তার রাজনৈতিক কেরিয়ার ধ্বংস করার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। রায় ঘোষণা শেষ হওয়ার আগেই ল্য পেন আদালত চত্বর ত্যাগ করেন।
ল্য পেনের দল এই রায়কে ‘জুডিশিয়াল ওভাররিচ’ হিসেবে দেখছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলার ক্ষেত্রেও শোনা গিয়েছিল। ল্য পেনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, যেমন প্রধানমন্ত্রী ফ্রসোয়াঁ বায়রু, মনে করেন যেভাবে আদালত নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্ধারণ করছে, তা উদ্বেগের কারণ। তবে, ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সচিব ফাবিয়েন রুসেল আদালতের রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এই মামলায় ল্য পেনের দলের আরও আটজন সদস্য, যারা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন, তাদেরও শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, বারোজন সংসদীয় সহকারীকেও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়া এই আদালতের রায়কে ইউরোপে গণতন্ত্রের জন্য প্রশ্নবোধক বলে মনে করছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র ডিমিট্রি পেসকভ বলেছেন, “আরও বেশি সংখ্যক ইউরোপিয়ান রাজধানী গণতন্ত্রের নীতির বিরুদ্ধপথে হাঁটছে।” হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানও এই রায়ের সমালোচনা করেছেন এবং ল্য পেনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই রায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মোড় এনে দিল। ল্য পেনের অনুপস্থিতিতে ন্যাশনাল র্যালি পার্টি কিভাবে নিজেদের সংগঠিত করে এবং ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।