জলপাইগুড়িতে পুণ্যস্নানে গিয়ে নদীতে ডুবে মৃত্যু ১০ বছরের শিশুর, শোকস্তব্ধ পরিবার

শোকাবহ খবর, পুণ্যস্নান শেষে আর বাড়ি ফেরা হল না ১০ বছরের শিশুর। জলপাইগুড়ি জেলার গৌরীহাট সংলগ্ন এলাকায়, করলা নদীর ঘাটে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এখানে চলছে বারৌনি স্নান ও মেলা, যেখানে প্রতি বছর অগণিত ভক্তরা আসেন পুণ্যস্নানে অংশ নিতে। আর এই স্নান করতে এসে মারা গেল ছোট্ট বিবেক রায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিবেকের মা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে স্নানরত ছেলেকে দেখছিলেন। কিন্তু বিবেক বন্ধুরা সঙ্গে নদীতে স্নান করতে নামে। কিছু সময়ের মধ্যেই, ঘটনাটি ঘটে—বিবেক স্নান করতে নামার পর তলিয়ে যেতে থাকে। ছেলের প্রাণবায়ু শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখে চিৎকার করে ওঠেন মা। মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

উদ্ধারের পরেই দ্রুত স্থানীয় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা বিবেককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, এই দুর্ঘটনায় মেলা কমিটি এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিবেকের পরিবার অভিযোগ করেছে, ওই ঘাটে স্নানের জন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল না এবং সিভিল ডিফেন্সের কোনো কর্মীও উপস্থিত ছিলেন না। মেলার আয়োজকরা জানিয়ে বলেছেন, সকাল থেকেই নদীতে স্নান না করতে মাইকিং করা হচ্ছিল, কিন্তু বিবেকসহ অনেকেই তাতে কান দেয়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মেলায় যথেষ্ট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল, তবুও কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। মেলার কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ওই ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিবেকের আকস্মিক মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। পরিবারের সদস্যরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তাদের ছোট্ট বিবেক আর কখনও ফিরে আসবে না।