শান্তনুর ‘বোধদয়’, মমতাবালার পা ছুঁচ্ছেন BJP-র অসীম, ঠাকুরবাড়িতে দেখা গেলো মিলনের ছবি

ঠাকুরনগরের ঠাকুর পরিবারকে ঘিরে রাজনীতির সমীকরণ ক্রমশ জমে উঠছে। বহু প্রাচীন বারুণী মেলার দায়িত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপানিদেবীর ঘর দখলকে কেন্দ্র করে গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে মাঝরাতে অশান্তি দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনা এখন অতীত। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বারুণী মেলা, যেখানে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ পুণ্যস্নানে অংশ নেবেন।

মমতাবালার জয়, শান্তনুর মিলনের বার্তা

কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে বারুণী মেলার দায়িত্ব মমতাবালা ঠাকুরের হাতে থাকছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তনু বলেন, “আমার বোধদয় হয়েছে।” বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে মমতাবালার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। তিনি বলেন, “মা তো মা-ই হয়। ভক্তরা এটাই চেয়েছিল। রাজনীতি তার জায়গায় থাক। মতুয়া পরিবার চায় আমরা একত্রিত হই।”

মমতাবালা বলেন, “সংসারে ভুল-বোঝাবুঝি হয়, এটা জগতের নিয়ম। হরিচাঁদের দর্শন হল নারী-পুরুষের সমান অধিকার। তাই নারীশক্তির জয় হবেই।” এদিন ঠাকুরবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বড়মার ঘরে প্রণাম করে সুজিত বলেন, “ধর্ম আর রাজনীতি আলাদা। মেলা মানুষের আবেগের জায়গা। সামিল হতে পেরে খুশি।”

২০০ বছরের ঐতিহ্যে বারুণী মেলা

বারুণী মেলা মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। ২০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই মেলা চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিঠিতে শুরু হয় এবং ৭ দিন ধরে চলে। আজ ভোর থেকে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে মেলা শুরু হয়েছে। মমতাবালা, শান্তনু ঠাকুর ও অসীম সরকারের একজোট হওয়া ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শান্তনু বলেন, “মিলেমিশে এক হচ্ছি, এটাই বড় কথা। আমরা না থাকলেও মেলা হবে। বাজে বার্তা যাওয়া উচিত নয়। আমি নিজেকে ধন্যবাদ জানাই যে আমার বোধদয় হয়েছে। একসঙ্গে করাই উচিত, এটা আমি বুঝেছি।”

রাজনীতি ও ধর্মের সন্ধিক্ষণ

বারুণী মেলাকে কেন্দ্র করে মতুয়া মহাসঙ্ঘে মহামিলনের ছবি ফুটে উঠেছে। অসীম সরকারের প্রণাম, শান্তনুর মিলনের বার্তা এবং মমতাবালার নেতৃত্বে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভক্তদের জন্য এই মেলা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, একত্রিত হওয়ার প্রতীকও বটে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐক্য আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।