“আপনার বাড়িতে দা নেই কেন? ওরা রাম দা দেখেনি”- ফের পুরোনো ফর্মে দিলীপ ঘোষ

বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ ফের একবার তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুললেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে তিনি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষ। খাই-দাই, মর্নিং ওয়াক করি। বাড়িতে নারকেল কাটার জন্য একটা দা কিনতে গেলে অনেক ভদ্রলোক ভয় পেয়ে যান। কেউ বলে ওটা নাকি রাম দা। ওরা এখনও রাম দা দেখেনি।” নিজের পয়সায় রাস্তা তৈরি ও তার উদ্বোধন নিয়ে বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, “ওরা চেঁচামেচি করছে। বিতর্ক কে তৈরি করল? কেউ আমাকে বিতর্কে ফেলে নিজের নাম ভাঙাতে চায়। আমি উত্তর না দিয়ে চলে আসার নেতা নই।”

পুরনো ফর্মে ফিরছেন দিলীপ?

দিলীপ ঘোষ কি আবার পুরনো রূপে ফিরে এলেন? এ প্রশ্নে খড়গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, “পুরনো ফর্ম নয়। যারা আমার সম্পর্কে খোঁজ রাখেন, তাঁরা জানেন এটাই আমার ফর্ম। অনেকে আমার ফর্ম দেখতেই খবর দেখেন। তাঁদের জন্য মায়া হয়।”

বারুণী মেলা ও মতুয়া সম্প্রদায়

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিখ্যাত বারুণী মেলা। তার আগে বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেন। এ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “এটা পারিবারিক ব্যাপার। গুরুদেবের পর কার অধিকার, সেখানে আর্থিক বিষয় চলে আসে। মতুয়া গুরুরা আমাদের কাছে পূজনীয়। ভক্তদের বলব, এর মধ্যে থাকবেন না।”

সংবিধান ও প্রশাসনের সমালোচনা

মিটিং-মিছিলের অনুমতি পেতে রাজ্য বিজেপিকে বারবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এ নিয়ে দিলীপ কটাক্ষ করে বলেন, “মমতা বিদেশে গিয়ে গান্ধীর কাছে প্রার্থনা করছেন সংবিধান বজায় রাখতে। ওঁর রাজ্যে কি সংবিধান আছে? পুজো থেকে কর্মসূচি, সব হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে করতে হয়। মমতা একা সব সিদ্ধান্ত নেবেন? তাহলে চাকরি ছেড়ে দিন। অযোগ্য লোকেরা পুলিশে কেন? ২০২৬-এ মানুষ এদের বিসর্জন দেবে।”

মমতার লন্ডন সফরে কটাক্ষ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লন্ডনে শিল্প সম্মেলনে যোগ দিয়ে কয়েকটি শিল্প গোষ্ঠীর সঙ্গে মউ সাক্ষর করেছেন বলে দাবি। দিলীপ বলেন, “গত ১৫ বছরে ওঁর মউ সাক্ষর একটা বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু বিনিয়োগ এত কম, সেটাও রেকর্ড। পশ্চিমবঙ্গে কে কত বিনিয়োগ করেছে? বিদ্যুতের দাম ওরা ঠিক করে। দিল্লির বাঙালি শিল্পপতিরা বলেন, আপনারা ক্ষমতায় এলে বিনিয়োগ করব।”

বিজেপির পূর্ণ সময়ের সভাপতি

রাজ্যে বিজেপি কি পূর্ণ সময়ের সভাপতি পাবে? দিলীপ বলেন, “২০২৬-এ ভোট। বিজেপিতে প্রতি ৩ বছরে সাংগঠনিক নির্বাচন হয়। সর্বভারতীয় নেতারা যাঁকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাঁকে দায়িত্ব দেবেন। কর্মীরা আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন, আমি অপেক্ষা করতে বলেছি।”

রামনবমীতে হামলার আশঙ্কা

রামনবমী উদযাপন সমিতি জানিয়েছে, রাজ্যে অন্তত ৪৩ জায়গায় মিছিলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। দিলীপ বলেন, “মদন মিত্র বলেছেন ৪৩ জায়গার কথা কীভাবে জানা গেল? উনি রাজ্যকে জানাচ্ছেন না কেন? আমি বলছি, সেদিন মিছিল করুন। বাধা পেলে থানা ঘেরাও করুন। পুলিশের অধিকার নেই হিন্দু সমাজের কাজ ঠিক করে দেওয়ার। আমি খড়গপুরে থাকব। অস্ত্র নিয়ে বেরোব। এটা আমাদের ঐতিহ্য। ব্রিটিশ-পাঠান আটকাতে পারেনি, এরা চেষ্টা করলে ছুঁড়ে ফেলা হবে।”

দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।