বিশেষ: ফিট থাকা মানেই কি হার্ট সুস্থ? জেনেনিন কি বলছেন জগৎ বিখ্যাত সার্জন ডাঃ দেবী শেঠি

অল্পবয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি। তিনি জানিয়েছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগের প্রকোপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বেঙ্গালুরুতে ‘BT MindRush 2025’ ইভেন্টে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া নিরাপদ নন’
ডা. শেঠি বলেন, “সুস্থ-স্বাভাবিক হৃদপিণ্ড নিয়ে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে কেউ মারা যান না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অজানা শারীরিক সমস্যাই হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও জানান, “ফিট থাকা মানেই সুস্থ থাকা নয়। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কিডনি এবং হৃদযন্ত্রের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, পেশাদার ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেও হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে যায়। “গুগলে ‘FIFA cardiac arrest’ সার্চ করলে দেখা যাবে, গত চার বছরে অনুশীলনের সময় ৬১৭ জন ফুটবলার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে,” বলেন তিনি।

৩০ মিনিটে হৃদরোগ শনাক্ত সম্ভব
হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ডা. শেঠি ECG, ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং CT অ্যাঞ্জিওগ্রামের মতো পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, “এই পরীক্ষাগুলো মাত্র ৩০ মিনিট সময় নেয়, কিন্তু হৃদরোগ শনাক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর।”

ভারত হবে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য পরিষেবার বিশ্বনেতা
ডা. শেঠি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, “আগামী ৫-১০ বছরে ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা আর আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে না। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ভারতে বছরে ৮.৫ মিলিয়ন ছানি অপারেশন হয়, যেখানে আমেরিকায় ৩.৫ মিলিয়ন এবং চিনে ৩.২ মিলিয়ন। ভারত একাই আমেরিকা, চীন ও ইউরোপের মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি অপারেশন করে।”

স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য পরামর্শ
সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার ওপর জোর দিয়েছেন ডা. শেঠি। তিনি বলেন, “প্রতিদিন অন্তত ১০,০০০ পদক্ষেপ হাঁটুন। এতে হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার ও মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে। ফোনে কথা বলার সময় হেডফোন ব্যবহার করে হাঁটলে দিনে ২,০০০ পদক্ষেপ বাড়ানো সম্ভব।”

স্থূলতা নিয়ে সতর্কবার্তা
স্থূলতাকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “ওজন কমাতে প্রথমে ডায়েট ও ব্যায়ামে মন দিন। চরম পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে ওজন কমানোর ওষুধ নেওয়া যেতে পারে।”

আধ্যাত্মিকতার গুরুত্ব
শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক শান্তির জন্য আধ্যাত্মিক হওয়ার পরামর্শ দেন ডা. শেঠি। তিনি বলেন, “মানসিক শান্তি ছাড়া পূর্ণ সুস্থতা সম্ভব নয়।”

ডা. শেঠির এই বক্তব্য অল্পবয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।