লকডাউনে নিখোঁজ হয়ে যায় ভাই, ৬ বছর পর ভিডিওতে দেখে আবেগে ভেঙে পড়ল পরিবার

ছয় বছর ধরে নিখোঁজ থাকা ভাইকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখে আবেগে ভেঙে পড়েছে মালদার একটি পরিবার। করোনা লকডাউনের সময় থেকে নিখোঁজ সুলতান খানকে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল তার পরিজনরা। কিন্তু সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তাকে ট্রেনের কামরায় নোংরা পোশাকে বসে থাকতে দেখে চিনতে পারেন তার দিদি কৌসর বিবি। এখন ভাইকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।

ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে নিখোঁজ
মালদার মানিকচকের নুরপুর পঞ্চায়েতের ব্রাহ্মণগ্রামের বাসিন্দা সুলতান খান ২০১৯ সালে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব মেটাতে ভিন রাজ্যে কাজে যান। দিল্লিতে ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। ২০২০ সালে করোনার কারণে দেশজুড়ে লকডাউন জারি হলে অনেক শ্রমিক বাড়ি ফিরলেও সুলতান আর ফেরেননি। পরিবার তার খোঁজে দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছিল, কিন্তু কোনও সন্ধান না মেলায় শেষমেশ ধরে নেওয়া হয়েছিল যে তিনি হয়তো করোনায় মারা গেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে আশার আলো
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে একজন ব্যক্তিকে নোংরা পোশাকে, বড় চুল-দাড়ি নিয়ে ট্রেনের কামরায় বসে থাকতে দেখা যায়। এক যাত্রী তাকে খাবার দিচ্ছিলেন। এই ভিডিও দেখে সুলতানের দিদি কৌসর বিবি তাকে চিনতে পারেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান। ভিডিওতে সুলতানের বিধ্বস্ত চেহারা দেখে পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।

প্রশাসনের কাছে আর্জি
ভিডিওটি দেখার পর সুলতানের দিদি কৌসর বিবি এবং স্ত্রী রেহানা বিবি মানিকচক থানায় গিয়ে নিখোঁজ সুলতানকে ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশের সাহায্য চেয়েছেন। কৌসর বিবি বলেন, “ভেবেছিলাম ভাই আর বেঁচে নেই। ভিডিওতে তাকে দেখে খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু মনে হচ্ছে তার মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তাকে খুঁজে বাড়ি ফিরিয়ে আনুক।”

পরিবারের আবেগঘন মুহূর্ত
ছয় বছর ধরে ভাইয়ের জন্য দিশেহারা পরিবার এতদিন পর তার সন্ধান পেয়ে উচ্ছ্বসিত। তবে তার মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা। সুলতানের স্ত্রী রেহানা বিবি বলেন, “ওকে দেখে মনে হচ্ছে ও আর আগের মতো নেই। আমরা শুধু চাই ও বাড়ি ফিরে আসুক।”

প্রশাসনের আশ্বাস
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি পরীক্ষা করে সুলতানের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তি এবং পরিবারের অধ্যবসায়ের এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে। পরিবারের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা এখন, সুলতানকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনা।

(বিঃদ্রঃ ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত)