OMG! কাজ দেওয়ার নাম করে যুবতীকে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ, ডেবরায় ধৃত ৩ অভিযুক্ত

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানা এলাকায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবতীকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ শুক্রবার তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার ধৃতদের মেদিনীপুর সিজেএম আদালতে তোলা হলে আদালত দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের আবেদনে আদালত অভিযুক্তদের শনাক্তকরণের জন্য টিআই প্যারেডের অনুমতিও দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা যুবতী হুগলি জেলার বাসিন্দা এবং বিভিন্ন ডান্স বারে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ডেবরা-বাড়াগড় এলাকার তিন যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ফোন নম্বর আদান-প্রদানের পর অভিযুক্তরা তাঁকে ডেবরার একটি হোটেলে মোটা টাকার কাজের প্রলোভন দেখায়। বেশি উপার্জনের আশায় দিনকয়েক আগে যুবতী ডেবরায় আসেন। অভিযোগ, কাজের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাঁকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। এরপর চলন্ত গাড়িতে ঘুরতে ঘুরতে তিন অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করে।
নির্যাতিতা গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পথচলতি লোকজনের নজরে পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্তরা কিছুটা ভীত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে যুবতী কোনও রকমে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্ত ও গ্রেফতার
যুবতী অভিযুক্তদের সঠিক পরিচয় বা ঠিকানা জানাতে পারেননি। তবে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ শুক্রবার তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বাড়ি ডেবরা ও বাড়াগড় এলাকায় বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে যুবতীর পরিচয় কীভাবে হল এবং ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। টিআই প্যারেডের মাধ্যমে নির্যাতিতা ধৃতদের শনাক্ত করতে পারলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, ডেবরার কয়েকটি হোটেলে গোপনে ডান্স বার চালানো হয়। তবে চলন্ত গাড়িতে এমন নৃশংস ঘটনা তাঁদের হতবাক করেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে সারাদিন যানবাহন চলাচল করে, সেই রাস্তাও কি নিরাপদ নয়?
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় চলন্ত গাড়িতে এক মহিলার উপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। যারা মহিলাদের সুরক্ষা দিতে পারে না, তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।”
এই ঘটনা এলাকায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।