‘ওরা মদে আসক্ত..’- হিন্দুদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য AAP বিধায়কের, বিক্ষোপ বিরোধীদের

জম্মু ও কাশ্মীরের আম আদমি পার্টির (AAP) বিধায়ক মেহরাজ মালিকের এক মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে জম্মু ও কাশ্মীরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যা ক্রমেই রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মালিক বলেন, “তারা (হিন্দুরা) মদের দোকান বন্ধ করবে না, কারণ তারা উৎসব এবং বিয়ের সময়ও মদ্যপান করে। তারা এতে আসক্ত।” তাঁর এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিধানসভাতেই সরব হন বিজেপি বিধায়করা। পরে স্পিকার মোবারক গুল তাঁর বক্তব্য রেকর্ড থেকে মুছে দিলেও বিতর্ক থামেনি।
মেহরাজ মালিকের বক্তব্যের পরপরই জম্মু ও কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আপ বিধায়কের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি তোলে। ডোগরা ফ্রন্ট, শিবসেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দলসহ একাধিক সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদ জানায়।
কাঠুয়ায় বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং মেহরাজ মালিকের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। তারা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ডোগরা ফ্রন্টের শিবসেনা সভাপতি অশোক গুপ্তা বলেন, “তিনি কোটি কোটি হিন্দুর অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। আমাদের কি নেশাগ্রস্ত বলার অধিকার আছে তাঁর? এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক!”
তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করেন মেহরাজ মালিক। তিনি বলেন, “হিন্দু ও মুসলিমসহ সবাই মদ খেয়ে থাকেন। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে। আমার মন্তব্য যদি কারও কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমার উদ্দেশ্য কারও ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না।”
জম্মু ও কাশ্মীরের আপের একমাত্র বিধায়ক মেহরাজ মালিক ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডোডা আসনে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি বিজেপির গজয় সিং রানাকে পরাজিত করেন। ২০১৩ সালে আম আদমি পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর ২০২০ সালে তিনি কাহারা থেকে জেলা উন্নয়ন কাউন্সিলের (ডিডিসি) সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে তাঁকে আপের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য সমন্বয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান করা হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উধমপুর-কাঠুয়া আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি চতুর্থ স্থানে ছিলেন।
এই বিতর্কের পর বিজেপি বিধায়করা মেহরাজ মালিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। আপের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মালিকের মন্তব্য ও তার প্রতিক্রিয়ায় জম্মু ও কাশ্মীরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।