কম যাত্রী সংখ্যা, তবে কি বন্দে ভারতের ভাড়া কমবে? জবাব দিলেন রেলমন্ত্রী

ঝকঝকে চেহারা, উচ্চমানের পরিষেবা—বন্দে ভারত ট্রেন নিয়ে ভারতীয়রা বেশ খুশি, এমনকী অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের জন্যও এই প্রিমিয়াম ট্রেন পেয়ে। তবে ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকের ইচ্ছে থাকলেও এই ট্রেনে চড়তে পারেন না। ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বন্দে ভারত ট্রেনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, যাত্রী সংখ্যাও কম নয়। তাহলে কি এবার রেল এই ট্রেনের ভাড়া কমানোর কথা ভাবছে? এই প্রশ্নই এক সাংসদ তুলেছিলেন রেলমন্ত্রীর কাছে।

অসমের ধুবড়ি লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ রকিবুল হুসেন সম্প্রতি সংসদে জিজ্ঞাসা করেন, সরকার কি ভাড়া কমানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে নিম্ন আয়ের মানুষও এই প্রিমিয়াম পরিষেবার সুযোগ পান? জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, কোনও ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণে সরকার অনেক কিছু বিবেচনা করে—পরিষেবার খরচ, যাত্রী সংখ্যা এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতীয় রেল বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ট্রেন চালায়। সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “বন্দে ভারতের ভাড়া পর্যালোচনা ও সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া।” অর্থাৎ, সব দিক বিবেচনা করেই ভাড়ার পরিবর্তন হবে।

রেলমন্ত্রী জানান, “সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্য সরকার অমৃত ভারত ট্রেন চালু করছে। এগুলো সম্পূর্ণ নন-এসি ট্রেন, যেখানে ১২টি স্লিপার ক্লাস ও ৮টি সাধারণ কোচ রয়েছে। এই ট্রেনগুলো বিশেষভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য।” তিনি বলেন, এতে আধুনিক সুবিধা যেমন স্লাইডিং জানালা, ফোল্ডিং টেবিল রয়েছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “এই ট্রেনগুলোর লক্ষ্য কম খরচে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়া।”

তথ্য দিয়ে মন্ত্রী জানান, ভারতে ৩৫০ কিলোমিটার ভ্রমণে জেনারেল ক্লাসের টিকিটের দাম ১২১ টাকা, যেখানে পাকিস্তানে একই দূরত্বে খরচ ৪০০ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় ৪১৩ টাকা।