“৩ টি গুলি লাগে চুনমুনের”-এনকাউন্টারে মৃত্যু বিহারের তনিশক শোরুমে ডাকাতির মাস্টারমাইন্ড

বিহারের আরা ও পূর্ণিয়ায় তনিশক জুয়েলারি শোরুমে দুঃসাহসিক ডাকাতির মূল অভিযুক্ত চুনমুন ঝা শুক্রবার রাতে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। পালাসি মজলিসপুরের বাসিন্দা এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে ধরতে গিয়ে আরারিয়ার নরপতগঞ্জ থানা এলাকায় তালহা ক্যানালের কাছে পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় পাঁচ পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন, যার মধ্যে দুজন এসটিএফের জওয়ান।

কীভাবে ঘটল এনকাউন্টার?

আরারিয়ার এসডিও রামপুকার সিং জানিয়েছেন, চুনমুন ঝাকে ধরতে এসটিএফ ও স্থানীয় পুলিশ যৌথ অভিযানে নেমেছিল। গোপন সূত্রে খবর ছিল, চুনমুন ও তার সঙ্গীরা নরপতগঞ্জের তালহা ক্যানালের কাছে লুকিয়ে আছে। শুক্রবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই চুনমুন ও তার দল পুলিশের উপর গুলি চালায়। পাল্টা জবাবে পুলিশ ও এসটিএফও গুলি ছোড়ে। তীব্র গুলির লড়াইয়ে চুনমুন নিহত হয়। তার শরীরে তিনটি গুলি লাগে—দুটি বুকে ও একটি পায়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। চুনমুনের এক সঙ্গী গুলিবিদ্ধ হলেও সে পালিয়ে যায়। এই সংঘর্ষে জখম পাঁচ পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

চুনমুনের অপরাধের ইতিহাস

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুনমুন ঝা ছিল আরা ও পূর্ণিয়ার তনিশক শোরুমে ভয়াবহ ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই পূর্ণিয়ার তনিশক শোরুম থেকে ২০ কোটি টাকার গয়না লুট হয়। সেদিন সশস্ত্র ডাকাতরা শোরুমের দুই নিরাপত্তা রক্ষী, ২৫ জন কর্মী ও পাঁচ জন গ্রাহককে বন্দি করে সব গয়না নিয়ে পালায়। একই কায়দায় আরার তনিশক শোরুমেও ডাকাতি করে তারা। পুলিশ জানায়, চুনমুনের বিরুদ্ধে বিহারের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, খুন, তোলাবাজিসহ একাধিক মামলা ছিল। তার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে এই ডাকাতিগুলি সংঘটিত হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য

এসডিও রামপুকার সিং বলেন, “চুনমুন ঝা একজন কুখ্যাত অপরাধী ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। আমরা তাকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে গুলি চালায়। পাল্টা জবাবে সে নিহত হয়। এই অভিযানে জখম পুলিশকর্মীদের চিকিৎসা চলছে। আমরা তার পলাতক সঙ্গীকে ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছি।”

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন

এই এনকাউন্টার বিহারে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে ফের আলোচনা তুলেছে। তনিশক শোরুমে ডাকাতির ঘটনা রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। চুনমুনের মৃত্যুতে পুলিশের তৎপরতা প্রশংসিত হলেও, তার সঙ্গীদের ধরতে পুলিশের উপর চাপ বাড়ছে। এই ঘটনার পর পূর্ণিয়া ও আরার বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

চুনমুন ঝার মৃত্যুতে তার অপরাধজগতের অধ্যায় শেষ হলেও, পুলিশ এখন তার দলের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করতে তৎপর। এই এনকাউন্টারের পরবর্তী তদন্তে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।