বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনায় উঠে আসছে যে ৪ নাম, কবে শপথ হতে নতুন সরকারের?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে শুরু করে প্রাথমিক ট্রেন্ড—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলায় পরিবর্তনের। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এখন রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো নাম সিলমোহর না দিলেও, গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে তীব্র পাটিগণিত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভোটের আগেই স্পষ্ট করেছিলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলারই কোনো ভূমিপুত্র। সেই ‘ভূমিপুত্র’ তত্ত্বকে সামনে রেখেই আপাতত চারজন হেভিওয়েট নেতার নাম নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।

৯ মে কি শপথ গ্রহণ?

বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, আগামী ২৫শে বৈশাখ অর্থাৎ ৯ মে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিনটিকে শপথ গ্রহণের জন্য বেছে নিতে পারে দল। যদিও সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে বিশেষ এই দিনটিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই খবর।

মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে যারা:

১. শুভেন্দু অধিকারী: জায়ান্ট কিলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের গড় ভবানীপুরে হারানো এবং একইসঙ্গে নন্দীগ্রামের দখল রাখা—শুভেন্দু অধিকারীকে এই মুহূর্তে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ করে তুলেছে। তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি পরাজয়ের স্বাদ দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাঁর নামই মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও লড়াকু ভাবমূর্তি প্লাস পয়েন্ট হতে পারে।

২. শমীক ভট্টাচার্য: সংগঠনের রূপকার বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দলের পুরোনো ও নবাগত কর্মীদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার কারিগর মনে করা হয় শমীক ভট্টাচার্যকে। তাঁর মার্জিত ভাষা এবং বিতর্কহীন ভাবমূর্তি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বেশ পছন্দের।

৩. উৎপল ব্রহ্মচারী: সঙ্ঘের আস্থাভাজন কালিয়াগঞ্জ থেকে রেকর্ড ভোটে জয়ী উৎপল ব্রহ্মচারী ওরফে ‘উৎপল মহারাজ’ এই তালিকার অন্যতম চমক। আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সঙ্ঘ যদি বড় কোনো ভূমিকা পালন করে, তবে উৎপল মহারাজের পাল্লা ভারী হতে পারে।

৪. স্বপন দাশগুপ্ত: বুদ্ধিজীবী মুখ দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে স্বপন দাশগুপ্তের জুড়ি মেলা ভার। তাঁর জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধিজীবী ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকার পরিচালনার কথা ভাবতে পারে বিজেপি।

শেষ কথা রাজ্য রাজনীতি এখন ফুটছে। বাংলার তখতে কে বসবেন, তা ঠিক করতে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। একদিকে শুভেন্দুর জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে সঙ্ঘের পছন্দ—সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন নজর ৯ মে-র দিকে। বাংলার মানুষ কি নতুন ভোরের দেখা পাবেন? উত্তর আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।