মুসলিমদের ৪% সংরক্ষণ!-বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হলো BJP MLA-দের

সরকারি কাজের বরাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ৪ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার কর্নাটক বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল দেখা দিয়েছে। এই বিলের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়ে ওঠেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের প্রতিবাদ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, অধিবেশনকক্ষে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্শালদের ডাকতে হয়, যাঁরা বিজেপি বিধায়কদের রীতিমতো পাঁজাকোলা করে কক্ষের বাইরে বের করে দেন। এই হট্টগোলের মধ্যেই ‘কর্নাটক ট্রান্সপারেন্সি ইন পাবলিক প্রকিউরমেন্টস (সংশোধন) বিল, ২০২৫’ পাস করে কংগ্রেস সরকার।

বিলের বিষয়বস্তু ও বিতর্ক

এই বিলের মাধ্যমে সরকারি চুক্তিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ৪% সংরক্ষণের বিধান করা হয়েছে। ২ কোটি টাকা পর্যন্ত সিভিল কাজের চুক্তি এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পণ্য ও পরিষেবার চুক্তিতে এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কংগ্রেস সরকার এই পদক্ষেপকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করলেও, বিজেপি এটিকে ‘তোষণের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপি নেতারা এই বিলকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার হুমকি দিয়েছেন।

বিধানসভায় হট্টগোল ও সাসপেনশন

বিল পাসের সময় বিজেপি বিধায়করা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁরা অধ্যক্ষ ইউ টি খাদেরের আসনের কাছে উঠে গিয়ে কাগজপত্র ছিঁড়ে ছড়িয়ে দেন। এই বিশৃঙ্খলার জেরে অধ্যক্ষ ১৮ জন বিজেপি বিধায়ককে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করেন। সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির চিফ হুইপ দোদ্দান্না গৌড়া পাতিল, সি এন অশ্বথ নারায়ণ, এস আর বিশ্বনাথ প্রমুখ। অধ্যক্ষের নির্দেশে মার্শালরা এই বিধায়কদের জোর করে বাইরে বের করে দেন।

অধ্যক্ষ খাদের বলেন, “এই আসন শুধু একটি চেয়ার নয়, এটি গণতন্ত্র, সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক। এর মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব। এই ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষা হোক।” তিনি আরও জানান, এই ধরনের আচরণ সংসদীয় ঐতিহ্যের পরিপন্থী।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিরোধী দলনেতা আর অশোক বিলটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, “এটি একটি বড় ষড়যন্ত্র। আমরা আইনি পথে এর বিরুদ্ধে লড়ব।” অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, “এই বিল সংখ্যালঘুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আমরা সবাইকে নিয়ে সমানভাবে এগোতে চাই।”

বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিজয়েন্দ্র ওয়াই জানিয়েছেন, “আজ ৪%, কাল ১০০%। এটা হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ। আমরা রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ করব।” এদিকে, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বিজেপির সমালোচনার জবাবে বলেন, “মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ—সবাই এ দেশের নাগরিক। আমরা সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করছি।”

আগামীর পথ

বিলটি এখন রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলটের অনুমোদনের অপেক্ষায়। বিজেপি ও জেডি(এস) রাজ্যপালের কাছে এটি প্রত্যাখ্যানের আবেদন জানিয়েছে। এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।