বিচারপতির বাংলোর অন্দরে টাকার পাহাড়, জেনেনিন কে এই বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা?

দোলের সময় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার সরকারি বাংলোয় আগুন লাগার ঘটনা থেকে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগুন নেভানোর সময় দমকলকর্মীরা বাংলোয় বিপুল পরিমাণ হিসাব বহির্ভূত নগদ অর্থের সন্ধান পান। এই ঘটনার পর বিচারপতি ভার্মা বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম তড়িঘড়ি তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে তাঁর মূল আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টে ট্রান্সফার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনায় ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু কে এই বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা?
বিচারপতি ভার্মার পরিচিতি
রেকর্ড অনুযায়ী, বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা ২০২১ সালের অক্টোবরে দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে তাঁকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওই আদালতের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। দিল্লি হাইকোর্টের ওয়েবসাইট অনুসারে, তিনি ১৯৬৯ সালের ৬ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে (বর্তমানে প্রয়াগরাজ) জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হংসরাজ কলেজ থেকে বিকম (অনার্স) এবং মধ্যপ্রদেশের রেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯২ সালের ৮ আগস্ট তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন।
তাঁর আইনি কেরিয়ারে সাংবিধানিক আইন, শ্রম ও শিল্প আইন, কর্পোরেট আইন এবং কর সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা ছিল। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টে বিশেষ আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রধান স্থায়ী আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আগুন থেকে নগদ অর্থের সন্ধান
দোলের ছুটির সময় বিচারপতি ভার্মা দিল্লিতে তাঁর সরকারি বাংলোয় উপস্থিত ছিলেন না। সেই সময় বাংলোয় আগুন লাগে। আগুন নেভাতে আসা দমকলকর্মীরা বাংলোর ভেতরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান পান। তারা তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাটি সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের কাছে পৌঁছায়। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি বিচার বিভাগের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে কলেজিয়ামের বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে বিচারপতি ভার্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
তদন্তের নির্দেশ ও বিচারপতির নীরবতা
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এই ঘটনার গভীর তদন্তের জন্য ইন-হাউস তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র জানায়, কলেজিয়ামের কিছু সদস্য মনে করেন, শুধু ট্রান্সফারই যথেষ্ট নয়; এই ঘটনা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিচারপতি ভার্মা এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ‘ছুটিতে’ রয়েছেন। শুক্রবার তাঁর আদালতেও কোনও শুনানি হয়নি।
বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সবাই “হতবাক ও হতাশ”। তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, রাজ্যসভায়ও এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনার তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং বিচারপতি ভার্মার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে এই ঘটনা বিচার বিভাগের উপর জনগণের ভরসা কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।