স্বামীকে খুনের আগেও ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ ভাইব, বরের সঙ্গে জমিয়ে নাচ মুসকানের, ফাঁস ঘনিষ্ঠ ভিডিয়ো

মেয়ের জন্মদিনে স্বামী-স্ত্রীর জমিয়ে নাচ, সুখী পরিবারের হাসিমুখ—এই দৃশ্যের কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত সৌরভ রাজপুতকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও তার প্রেমিক সাহিল শুক্লার বিরুদ্ধে। গত সোমবার সৌরভের দেহের ১৫টি টুকরো বাড়ির জলের ড্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর দেহ টুকরো করে সিমেন্ট দিয়ে ড্রামে পুঁতে রাখা হয়েছিল। দুই অভিযুক্ত বর্তমানে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

ঘটনার পটভূমি আরও হাড়হিম করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌরভ ও মুসকানের মেয়ের জন্মদিনে লন্ডন থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন সৌরভ। সেদিন সন্ধ্যায় ঘরোয়া পার্টিতে মেয়ের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে নাচেন। সেই ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তাঁদের হাসিখুশি মুহূর্ত দেখে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে এর কয়েক দিন পরই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌরভকে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে তারপর খুন করা হয়। এরপর দেহ টুকরো করে ড্রামে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।

নৃশংসতার বর্ণনা ও প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা

পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেহের অবস্থার যে বর্ণনা এসেছে, তা শুনে রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর মুসকান তার প্রেমিক সাহিল শুক্লার সঙ্গে মিলে দেহ লুকানোর পরিকল্পনা করে। অভিযোগ, খুনের পর মুসকান সাহিলের সঙ্গে মানালি ঘুরতে চলে যান। ধরা পড়ার পর দুজনেই অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ভিডিয়োতে ‘সুখী পরিবার’, তারপর নৃশংসতা

২৮ ফেব্রুয়ারির ভিডিয়োতে সৌরভ ও মুসকানকে তাঁদের মেয়ের সঙ্গে নাচতে দেখা গেছে। এই দৃশ্য দেখে নেটিজেনরা হতবাক। একজন লিখেছেন, “এই ভিডিয়ো দেখে কে বলবে যে এমন নৃশংস কাণ্ড ঘটতে পারে?” আরেকজন লিখেছেন, “বাইরে থেকে যতই সুখী মনে হোক, ভেতরে কী চলছে কেউ জানে না।” এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের ক্ষোভ ও ফাঁসির দাবি

সৌরভের মা-বাবা এই ঘটনায় গভীর শোকে মুহ্যমান। তাঁরা মেয়ে মুসকানের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। সৌরভের বাবা বলেন, “আমার ছেলে মেয়ের জন্মদিনে ফিরেছিল। ওরা ওকে এভাবে মারবে ভাবতেও পারিনি। ওদের কঠোর শাস্তি চাই।” মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মুসকান আমার ছেলের জীবন শেষ করে দিল। ওর ফাঁসি হওয়া উচিত।”

পুলিশ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

মিরাট পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে মুসকান ও সাহিলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের প্রমাণ মিলেছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ঘুমের ওষুধ দিয়ে অজ্ঞান করার পর খুন করা হয়েছে। দেহ টুকরো করে লুকানোর চেষ্টা হয়েছিল। দুজনেই অপরাধ স্বীকার করেছে।” বর্তমানে দুই অভিযুক্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তে খুনের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার আরও বিশদ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এই ঘটনা মিরাটে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একদিকে সুখী পরিবারের ছবি, অন্যদিকে নৃশংসতার এই কাহিনি—এই দ্বৈততা সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।