চাহালের থেকে ৪.৭৫ কোটি নেবেন ধনশ্রী, ভিভোর্সে স্বামীরাও কি খোরপোশ চাইতে পারেন? কি বলছে আইন

ক্রিকেটার যুজবেন্দ্র চাহাল এবং তার স্ত্রী ধনশ্রী ভার্মার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার, দুজনেই বান্দ্রা পারিবারিক আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। দুই পক্ষের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন, চাহাল ও ধনশ্রীর সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটেছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর চাহালকে ধনশ্রী ভর্মাকে ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা খোরপোশ হিসেবে দিতে হবে। জানা গেছে, চাহাল ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন, এবং বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।

এই ঘটনা দেশের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের প্রবণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঘটে, যেখানে সেলিব্রেটি দম্পতিদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা আরও বেড়ে চলেছে। এদিকে, এমন বিবাহবিচ্ছেদের পর খোরপোশ বা ভরণপোষণের বিষয়টি সর্বদাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে, প্রশ্ন উঠছে—খোরপোশ বা ভরণপোষণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয় এবং পুরুষরাও কি এই সুবিধা পেতে পারেন?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশীষ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ভারতীয় আইনে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে খোরপোশ নির্ধারণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। খোরপোশ নির্ধারণের সময় বেশ কিছু বিষয় বিচার্য হয়, যেমন—স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক অবস্থা, উপার্জনক্ষমতা, এবং সামাজিক অবস্থান। উদাহরণস্বরূপ, যদি এক মহিলা দীর্ঘ ১০ বছর গৃহিণী হিসেবে স্বামী এবং সন্তানদের দেখাশোনা করেন, তবে আদালত সেই মহিলার খোরপোশ নির্ধারণের সময় স্বামীর আয়ের ওপর নজর দেবে। কারণ, ওই মহিলা চাকরি না করে সংসারের কাজ করেছেন, এবং তার কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরিজীবী হন এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, এবং উভয়ের আয়ের পরিমাণ সমান থাকে, তবে সাধারণত খোরপোশ দেওয়া হয় না। তবে, যদি তাদের সন্তানের দায়িত্ব থাকে, তখন আদালত আলাদা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে পারে।

খোরপোশের নির্ধারণে আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করা হয়, যেমন—উভয়ের আর্থিক অবস্থান, তাদের সম্পত্তি, সংসারের জীবনযাত্রার মান, এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এছাড়াও, আইনি প্রক্রিয়ায় খরচের পরিমাণ এবং স্বামীর ঋণও বিচার্য হয়। সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে জানিয়েছে, “ভরণপোষণ মূলত নির্ভরশীলকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়, অন্য পক্ষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়।”

যদিও সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদে স্ত্রী-রা খোরপোশ পান, তবে ভারতীয় আইনে পুরুষদেরও খোরপোশ চাওয়ার অধিকার রয়েছে। ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইনের ২৪ ও ২৫ ধারায় উল্লেখ করা আছে, যে স্বামীও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে খোরপোশ দাবি করতে পারেন। এর জন্য তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি স্ত্রীর ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন। যেমন, যদি তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম বা এমন কোনও অসুস্থতায় ভোগেন, যা তাকে উপার্জন করতে বাধা দেয়, তাহলে আদালতে এই প্রমাণ দেখিয়ে তিনি খোরপোশ পেতে পারেন।

চাহাল ও ধনশ্রীর বিবাহবিচ্ছেদ এবং খোরপোশের মামলা দেশের বৃহত্তর সামাজিক প্রসঙ্গের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন, সেলিব্রেটি দম্পতিদের মধ্যে বেড়ে চলা বিবাহবিচ্ছেদ, খোরপোশের জন্য আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট নিয়মের অভাব এবং পুরুষদেরও খোরপোশ চাওয়ার অধিকার, এই সবই সমাজে বিবাহ ও পারিবারিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করছে।