যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যাকাণ্ড, হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি হলো প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি (জেএফকে) হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন সরকারি নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) মার্কিন ন্যাশনাল আর্কাইভ এসব নথি প্রকাশ করে। এই নথিগুলো প্রকাশের পর থেকেই জেএফকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে কৌতুহল তৈরি হয়েছে ইতিহাসবিদ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জেএফকে হত্যাকাণ্ডের অবশিষ্ট সব রেকর্ড প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। শুধু জেএফকে নয়, তাঁর ভাই সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট এফ কেনেডি এবং নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নথিগুলোও অসম্পাদিতভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন ন্যাশনাল আর্কাইভ জানিয়েছে, “শ্রেণীবদ্ধকরণের জন্য পূর্বে আটকে রাখা সমস্ত রেকর্ড” প্রকাশ করা হয়েছে এবং এগুলো অনলাইনে বা ব্যক্তিগতভাবে পাওয়া যাবে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্কাইভ দুটি প্রাথমিক ধাপে তাদের ওয়েবসাইটে প্রায় ৬৩ হাজার পৃষ্ঠার নথি আপলোড করেছে। পরবর্তীতে আরও ফাইল ডিজিটালাইজড হওয়ার সাথে সাথে সেগুলোও অনলাইনে পোস্ট করা হবে।

কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য
১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর টেক্সাসের ডালাসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেছিল ওয়ারেন কমিশন। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কেনেডির ওপর সাবেক মেরিন শার্পশুটার লি হার্ভে অসওয়াল্ড গুলি চালিয়েছিল এবং তিনি একাই এই কাজে জড়িত ছিলেন।

তবে এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তটি কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও ভয়াবহ কোনও ষড়যন্ত্র থাকার জল্পনাকে থামাতে পারেনি। দশকের পর দশক ধরে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হয়েছে। সরকারি নথিগুলোর ধীরগতিতে প্রকাশ এই তত্ত্বগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

নথি প্রকাশের গুরুত্ব
২০২৩ সালে গ্যালাপের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ওয়ারেন কমিশনের রিপোর্টে বিশ্বাস করেন না। তারা মনে করেন, লি হার্ভে অসওয়াল্ড একাই কেনেডিকে হত্যা করেননি। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

অন্যান্য নেতার হত্যাকাণ্ডের নথিও প্রকাশ
জন এফ কেনেডির মৃত্যুর পাঁচ বছর পর ১৯৬৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় গুপ্তহত্যার শিকার হন তাঁর ভাই ও তৎকালীন মার্কিন সেনেটর রবার্ট এফ কেনেডি। ওই বছরই টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে আততায়ীর হাতে প্রাণ হারান মার্কিন নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। এই তিন নেতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট এতদিন জনসমক্ষে আসেনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা গোপনীয়তার অবসান ঘটল। এখন এই নথিগুলো বিশ্লেষণ করে ইতিহাসবিদ এবং গবেষকরা নতুন তথ্য ও অন্তর্দৃষ্টি খুঁজে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নথি প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা ব্যাপকভাবে আলোচনা শুরু করেছেন। অনেকেই এই নথিগুলো বিশ্লেষণ করে নতুন তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা নিয়ে তৈরি হওয়া ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।

মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত এই অধ্যায়ের গোপন নথি প্রকাশের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখা যাক, এই নথিগুলো জেএফকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কতটা সাহায্য করে।