TMC নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্কুলের ৫২ লক্ষ টাকা লোপাট প্রধান শিক্ষকের! বিক্ষোভ অভিভাবকদের

বাঁকুড়ার মগরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫২ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মুকেশ পাত্র স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল যুব নেতা বুদ্ধদেব শর্মার সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে রাত পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে স্কুলেই আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, ২০১৯ সাল থেকে ধাপে ধাপে স্কুলের নতুন ক্লাসরুম নির্মাণ, সীমানা পাঁচিল এবং পুরনো ভবন সংস্কারের জন্য মোট ৫২ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছিল স্কুলটি। কিন্তু বাস্তবে এই অর্থের কোনো সদ্ব্যবহার হয়নি। অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই টাকার কোনো হিসাব না দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির সদস্যরা লোপাট করেছেন।
তাদের আরও অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে স্কুলে কোনও অডিট করানো হয়নি। ফলে স্কুলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বড়সড় অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে একত্রিত হয়ে অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষকের কাছে হিসাব চাইতে যান। কিন্তু কোনও সন্তোষজনক জবাব না মেলায় তারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুলে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও, তাদের ঘিরেও ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা। পরে প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুকেশ পাত্র অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সমস্ত অর্থ স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই রয়েছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে কাজ শুরু করতে পারেননি, তবে খুব শীঘ্রই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাঁকুড়ার জেলা স্কুল পরিদর্শক জানিয়েছেন, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্কুলকে মোট ৫৪.৫৬ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই অর্থ ব্যয় করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রধান বিরোধী দলের দাবি, অভিভাবকদের অভিযোগ সত্য এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করেছে।
এই মুহূর্তে স্কুল শিক্ষা দফতর পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে, অর্থ লোপাটের অভিযোগ সত্যি হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই জানানো হয়েছে।