“তহবিল ভরে শুধু কেন্দ্রের, আয়ের ভাগ পায় না রাজ্য”- অভিষেকের প্রশ্নে নির্মলার জবাব

অভিষেকের প্রশ্ন, নির্মলার জবাব
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন—২০১৯ সাল থেকে সেস ও সারচার্জে কত টাকা আদায় হয়েছে? ২০১৪ থেকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস বাদে অন্যান্য সেসে কত আয় হয়েছে? গত পাঁচ বছরে এই অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে? এবং সরকার কি কর তুলে দিয়ে সেস ও সারচার্জ বাড়িয়েছে? জবাবে নির্মলা সীতারামন জানান, “সরকার কখনও কর তুলে দিয়ে সেস বা সারচার্জ বসায় না। এগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ও সাময়িকভাবে তহবিল সংগ্রহের জন্য নেওয়া হয়। জিএসটি ও আয়করের তুলনায় সেস ও সারচার্জে রাজস্ব অনেক কম। এটি বর্তমান কর কাঠামোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।”
তিনি আরও জানান, ২০১৪ থেকে বহাল থাকা সেস থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ২২,৩২,৬৮৪ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এর আগে ২০২০-২১, ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এই খাতে আয় ছিল যথাক্রমে ২৯,৬৭,৯৮৫ কোটি টাকা, ৩৫,২৬,৫০২ কোটি টাকা এবং ২২,৪৭,২৮২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সংশোধিত হিসেবে ২৩,৩১,৯০০ কোটি টাকা এবং আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে ২৫,১২,০৬০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজ্যের অংশীদারিত্ব নিয়ে বিতর্ক
সেস ও সারচার্জ থেকে আদায় হওয়া বিপুল অর্থ কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা হলেও রাজ্যগুলির কাছে এর কোনও অংশ পৌঁছয় না। এটি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিষেকের প্রশ্নে এই বিষয়টি ফের সামনে এসেছে। তৃণমূল সাংসদের দাবি, এই অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং রাজ্যগুলির জন্য ন্যায্য বণ্টনের দাবি অবহেলিত হচ্ছে।
চাষিদের আয় নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে, অভিষেক কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে চাষিদের আয় দ্বিগুণ করার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নিয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে কি না। সরাসরি উত্তর এড়িয়ে রামনাথ ঠাকুর লিখিত জবাবে জানান, “ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ৭৫ হাজার চাষির সাফল্যের গল্প প্রকাশ করেছে, যাঁদের আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।” তিনি আরও বলেন, ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের বাজেট এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
অভিষেকের প্রশ্ন এবং সরকারের জবাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সেস ও সারচার্জের নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তার ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। চাষিদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েও সরকারের জবাব স্পষ্ট নয় বলে সমালোচনা উঠেছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই তহবিল জাতীয় উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে রাজ্যগুলির অংশীদারিত্ব এবং কৃষকদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধির প্রশ্ন এখনও ঝুলে রয়েছে।