BigNews: বাংলা থেকে সরছে SBI-এর দফতর? রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠালো কর্মী সংগঠন

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) গ্লোবাল মার্কেট ইউনিট (GMU) কলকাতা থেকে মুম্বইয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে নাগরিক সংগঠন এবং ব্যাঙ্কের কর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ বাংলার আর্থিক ইকোসিস্টেমকে দুর্বল করবে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনবে। এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের দাবিতে ‘ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ’ নামে একটি কর্মী সংগঠন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। এর আগে তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও একটি চিঠি দিয়েছিলেন।

সংগঠনটির দাবি, SBI-এর ফরেক্স ট্রেজারি, ডেরিভেটিভস এবং কাঠামোগত পণ্য বিভাগসহ মূল বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত কার্যক্রম মুম্বইয়ে স্থানান্তরিত হলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা থেকে পরিচালিত হয়ে আসা GMU-এর এই স্থানান্তর রাজ্যের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

‘ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ’-এর যৌথ আহ্বায়ক বিশ্বরঞ্জন রায় এবং সৌম্য দত্ত তাঁদের চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, GMU-এর স্থানান্তরের ফলে রাজ্যের GST রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেবে। বর্তমানে এই ইউনিট বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকার GST আয় করে, যার মধ্যে ৯ শতাংশ রাজ্য সরকারের প্রাপ্তি। এছাড়াও, ব্যাঙ্কের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ সেন্টার (IRC) প্রায় ৪০ কোটি টাকা রাজস্বে অবদান রাখে। এই ইউনিটগুলি সরে গেলে রাজ্যের আর্থিক ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করছেন সংগঠনের সদস্যরা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় ৭০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মীর চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে গৃহস্থালি পরিষেবা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা কর্মীদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ২০০৮ সালে একবার SBI-এর ফরেক্স অপারেশন ইউনিট মুম্বইয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু কর্মীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কলকাতায় ফরেক্স ব্যবসার একটি অংশ ধরে রাখতে সম্মত হয়েছিল।

নাগরিক সংগঠন এবং কর্মীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে বাংলার অর্থনৈতিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এই ঘটনা নিয়ে আগামী দিনে আরও আন্দোলনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।