“ওয়েবেলে চাকরি দেওয়া হচ্ছে I-PAC কর্মীদের…”- বিস্ফোরক মন্তব্য সুকান্তর

রাজ্যের আগামী নির্বাচনের আগে আইপ্যাক (I-PAC) নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আইপ্যাকের কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়েছেন, তখন এই সংস্থাকে নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার একে একে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর আশঙ্কা, আইপ্যাক কর্মীদের ভোট লুঠের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়মে এমন এজেন্সি ঘরে বসে কাজ করুক, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা একুশের ভোটে দেখেছিলাম, আইপ্যাক মাঠে নেমে কাজ করেছে। এরা সেই সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঁচশো টাকা করে ভোটারদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিল। আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে ধরা হয়েছিল সে সময়।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, “এ ধরনের এজেন্সির ব্যবহার কি ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে স্বাস্থ্যকর?”

তিনি আরও বলেন, “এজেন্সি যদি ঘরে বসে কাজ করে, তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তারা মাঠে নেমে জনগণের মত পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, তাহলে তাতে ভারতে তর্ক-বিতর্ক হওয়া উচিত।”

সুকান্ত মজুমদার আরও অভিযোগ করেন, “বিরোধী দলনেতা আগেই বলেছেন যে, আইপ্যাকের কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আর তাদের ব্যবহার করা হতে পারে ভোট লুঠের জন্য।”

অপরদিকে, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাকের পক্ষে সাফাই দেন। তিনি বলেন, “আইপ্যাকের নাম করে টাকা তোলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন। এক ব্লক সভাপতির নাম নিয়ে টাকা চাইছে এমন অভিযোগ এসেছে, যার নম্বর দেওয়ার পর আমি সেটি যাচাইও করেছি।” তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও আইপ্যাকের পক্ষ নিয়ে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভুল। আইপ্যাক একটি স্বতন্ত্র এজেন্সি, ওরা নিজেদের মতো কর্মী নিয়োগ করে। বিজেপি এই ধরনের কথাবার্তা যত কম বলবে ততই মঙ্গল।”

আইপ্যাক, যা ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির জন্য কৌশলগত পরামর্শ প্রদান করে, বর্তমানে নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে রাজনীতির বিভিন্ন শিবিরে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে এবং ভোটের সময় এ নিয়ে চূড়ান্ত সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয় হল, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আইপ্যাক বিতর্ক রাজনীতির গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে।