২.৫ কেজি ছানার দুর্দান্ত এই মিষ্টি! ১০০০ টাকা দরে বিকোচ্ছে একটি মিষ্টি, জেনেনিন কোথায়?

শক্তিগড়ের ল্যাংচার নাম শুনলেই মুখে জল চলে আসে। এর খ্যাতি শুধু বাংলায় নয়, জগৎজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় থেকে বহিরাগত, সকলেই শক্তিগড়ে গিয়ে এই ল্যাংচার স্বাদ নেন, অনেকে বাড়িতেও নিয়ে যান। কিন্তু এবার আলোচনায় এসেছে এমন এক মিষ্টি, যা দেখতে কিছুটা ল্যাংচার মতো হলেও আদতে একটি রসগোল্লা। আর এর দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে—একেকটি মিষ্টির দাম ১০০০ টাকা পর্যন্ত!
পূর্ব বর্ধমানের দোগাছিয়ার দোলমেলায় এই অভিনব মিষ্টি নজর কেড়েছে। প্রতি পিসের দাম ৫ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। বিশাল আকৃতির এই রসগোল্লার টানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। সদ্যই উদযাপিত হয়েছে দোলযাত্রা। বাঙালির কাছে রঙের উৎসব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মিষ্টি ছাড়া উৎসব অসম্পূর্ণ। আর এই দোল উপলক্ষে দোগাছিয়ায় বসে বিশেষ মেলা, যেখানে এই বিশাল রসগোল্লাই মূল আকর্ষণ।
মিষ্টির তৈরি ও দাম
জানা গেছে, ১০০০ টাকার একটি রসগোল্লা তৈরিতে প্রায় আড়াই কেজি ছানার প্রয়োজন হয়। এই বিশাল মিষ্টি প্রস্তুত করতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। এত বড় মিষ্টির স্বাদ উপভোগ করতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই মেলায়। সাত দিন ধরে চলা এই মেলা দোগাছিয়াকে মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে একটি তীর্থক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
দোলমেলার ইতিহাস
দোগাছিয়ার দোল উৎসবের ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো। স্থানীয় রায়চৌধুরি পরিবারের উদ্যোগে এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল। প্রথমে এটি ছিল পারিবারিক আয়োজন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটি গ্রামের সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমার সময় গ্রামের দোলমন্দিরে এই মেলা বসে, যা এখন ‘মিষ্টির মেলা’ নামে খ্যাত। রায়চৌধুরি পরিবারের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি বিগ্রহের পুজোর পাশাপাশি এই মেলা আয়োজিত হয়।
মিষ্টিই মূল আকর্ষণ
রায়চৌধুরি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল রসগোল্লা এখন মেলার প্রধান আকর্ষণ। ক্রেতারা শুধুমাত্র এই মিষ্টির স্বাদ গ্রহণের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি বহিরাগতরাও এই মিষ্টির স্বাদে মুগ্ধ। এই রসগোল্লা শুধু আকারে বড় নয়, স্বাদেও অতুলনীয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় মিষ্টি বিক্রেতারা।
জনমানসে প্রভাব
দোগাছিয়ার এই দোলমেলা এখন শুধু একটি উৎসব নয়, বাঙালির মিষ্টিপ্রীতির একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। ৫ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের এই রসগোল্লা সবার মন জয় করেছে। এই মেলা প্রমাণ করে, বাঙালির উৎসব আর মিষ্টি একে অপরের পরিপূরক।