বিশেষ: সাপে কামড়ালে চিকিৎসার জন্য সত্যিই কি সাপটির প্রয়োজন? জেনেনিন কি বলছে চিকিৎসকরা?

সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস দেখে সাপ ধরার কৌশল শিখেছিলেন বাপ্পা দলুই। সাপের কামড় খাওয়ার পর সেই কৌশল কাজে লাগিয়ে সাপটিকে ধরে হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন তিনি। বীরভূমের সদাইপুর থানার পানুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পা চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। কৌটো থেকে সাপ বার করে দেখাতেই চিকিৎসকরা হতবাক। তাঁর সঙ্গীকে সাপটি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়। বাপ্পাকে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হয়।
সাপ ধরে নিয়ে আসা কি জরুরি?
এই ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে—সাপে কামড়ালে সাপ ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন? চিকিৎসক ও সর্প বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
চিকিৎসক অনমিত্র বারিক ও রিজওয়ান অসীম জানান, “আগের তুলনায় মানুষ এখন অনেক সচেতন। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। সাপে কামড়ালে চিকিৎসা কোন সাপ কামড়েছে তার ওপর নির্ভর করে না, উপসর্গের ওপর নির্ভর করে। যে কোনও সাপের কামড়ে একমাত্র ওষুধ AVS (অ্যান্টি-ভেনম সিরাম)। সাপ চিহ্নিত করতে বা ধরে নিয়ে আসতে গেলে সময় নষ্ট হয়, যা রোগীর জন্য ক্ষতিকর।”
তাঁরা আরও বলেন, “সাপ ধরতে গিয়ে আবার কামড় খাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দেরি হলে রোগী হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারলে মৃত্যুও হতে পারে। সাপে কামড়ালে রোগীকে মানসিকভাবে শান্ত রেখে দ্রুত নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই একমাত্র কাজ। পায়ে বাঁধন দেওয়ারও কোনও প্রয়োজন নেই।”
বিশেষজ্ঞদের মত
ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর সদস্য ও সর্প বিশেষজ্ঞ দীনবন্ধু বিশ্বাস বলেন, “সাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এটি দূর করতে নিয়মিত প্রচার দরকার। সাপে কামড়ালে ওঝা-গুণিনের কাছে না গিয়ে শুধু হাসপাতালে যাওয়া উচিত। সাপ ধরতে বা মারতে গেলে সময় নষ্ট হয়, যা রোগীর জীবনের জন্য ঝুঁকি। এছাড়া এটি আইনত অপরাধ, শাস্তিও হতে পারে।”
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত
বাপ্পার এই কাণ্ডে হাসপাতালে হইচই পড়ে গেলেও তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমন ঝুঁকি নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সচেতনতাই এখানে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।