“এবার লক্ষ্য ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট”-TMC -কর্মীদের রোডম্যাপ ছকে দিলেন অভিষেক

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি ও সাংগঠনিক নেতৃত্বকে নিয়ে টানা দু’ঘণ্টার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি ভোটার তালিকা পরীক্ষা, বিধানসভা ভিত্তিক দুর্বলতা দূরীকরণ এবং আসন্ন সাংগঠনিক রদবদলের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে এই ত্রিমুখী পরিকল্পনা কার্যকর করার পরিকল্পনা তাঁর।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন নিয়ে অভিষেক এই বৈঠকে দলের নির্বাচনী কৌশলকে নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর উপস্থিতিতে তিনি জানান, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ভোটার তালিকায় ভূতুড়ে ভোটার ঢুকিয়ে জয়ী হয়েছে। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে চার মাসে ৩৯ লক্ষ ভুয়ো ভোটার যোগ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও ২৫ লক্ষ ভূতুড়ে ভোটার ঢোকানোর পরিকল্পনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের।” এই ছক ভেস্তে দিতে আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে বুথ স্তরে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করবে তৃণমূল।
ভোটার লিস্ট স্ক্রুটিনির পরিকল্পনা
অভিষেক নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় ‘ইলেক্টোরাল রোল কমিটি’ গঠন করতে হবে। ২১-২৭ মার্চের মধ্যে ব্লক স্তরে এবং ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে ওয়ার্ড ও অঞ্চল ভিত্তিক কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটিগুলো ভোটার তালিকা পরীক্ষার কাজ তদারকি করবে। তদারকির জন্য ‘ইলেক্টোরাল রোল সুপারভাইজার’ নিয়োগ করা হবে। তিনি জানান, “১৬ এপ্রিল থেকে বুথে বুথে ভেরিফিকেশন শুরু হবে। এই কাজে কোনও গাফিলতি চলবে না।”
সাংগঠনিক রদবদলের ঘোষণা
বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট করেন, “জেলা ও ব্লক সভাপতিদের শিগগিরই বদল করা হবে। এই রদবদল একমাত্র পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হবে।” ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলকে মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “বুথ স্তরে রাজ্য নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করবে না। জেলা নেতৃত্বকেই বুথের কাজ তদারকি করতে হবে।” সূত্রের খবর, অভিষেক গত পাঁচ মাস আগে রদবদলের খসড়া তালিকা মমতার কাছে জমা দিয়েছিলেন। বিধায়করাও গত ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁদের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।
দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ
অভিষেক পূর্ব মেদিনীপুর, মালদা, রানাঘাট, উত্তর কলকাতা-সহ একাধিক সাংগঠনিক জেলার দুর্বল বিধানসভা কেন্দ্রগুলোর উল্লেখ করেন। এই কেন্দ্রগুলোতে সাংগঠনিক ত্রুটি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও উদ্যোগের অভাবের কারণে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে বলে তাঁর মূল্যায়ন। এই খামতি দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ট্রেনিং ক্যাম্পের পরিকল্পনা
ভোটার তালিকা পরীক্ষার কাজে দক্ষতা বাড়াতে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর সহায়তায় ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। এই ক্যাম্পে ১০ মিনিটের একটি ভিডিও দেখিয়ে বুথ স্তরের নেতাদের ভূতুড়ে ভোটার চিহ্নিতকরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বৈঠকের পরিসংখ্যান
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, এই ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৪,০০০ নেতা যোগ দিয়েছিলেন। অভিষেকের এই উদ্যোগকে দলের নির্বাচনী যন্ত্রকে শক্তিশালী করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের লক্ষ্য স্পষ্ট—ভোটার তালিকায় গরমিল দূর করে এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে আরও শক্তিশালী ভাবে মাঠে নামা। অভিষেকের এই রোডম্যাপ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ই বলবে।
প্রতিবেদন: [লেখকের নাম]