SPORTS: পাকিস্তানের T-20 খেলোয়াড়দের 90% ম্যাচ ফি কমেছে, জেনেনিন কেন?

সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আবারও শিরোনামে। এবারের কারণ টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দলের শোচনীয় পারফরম্যান্স এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি ৯০% পর্যন্ত কমানোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তবে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের শোচনীয় অবস্থা
পাকিস্তানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ পাকিস্তান দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে যায়। মাত্র ৫ দিনের মধ্যে দলটি কোনো ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হয়, যা পাকিস্তানি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বড় ধরনের অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই টুর্নামেন্টে ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পাকিস্তানের জন্য লজ্জা আরও বেড়েছে।
টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি কমানোর সিদ্ধান্ত
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্যর্থতার পর পিসিবি ঘরোয়া জাতীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি ৯০% পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে, খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচে ১ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি পান, যা কমিয়ে প্রতি ম্যাচে ১০,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রিজার্ভ খেলোয়াড়রা মাত্র ৫,০০০ টাকা পেতেন। এই সিদ্ধান্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
পিসিবি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ
খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি কমানোর সিদ্ধান্তে ঘরোয়া ক্রিকেটে তোলপাড় শুরু হলে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি হস্তক্ষেপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। ফলে, খেলোয়াড়রা আগের মতোই ম্যাচ ফি পাবেন।
কেন নেওয়া হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত?
পিসিবির একজন কর্মকর্তা ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে জানান, ম্যাচ ফি কমানোর সিদ্ধান্ত আর্থিক উদ্বেগের কারণে নেওয়া হয়নি। বরং, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়ন্স টি-টোয়েন্টি কাপের মতো আরও বেশি টুর্নামেন্টের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করার কথা ভেবেছিল পিসিবি। এছাড়া, ৫০ ওভার এবং প্রথম-শ্রেণীর টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়রা মাসিক বেতন পান, যা তাদের আয়ের একটি বড় অংশ।
জাতীয় টি-টোয়েন্টি কাপের আয়োজন
জাতীয় টি-টোয়েন্টি কাপ ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। ফয়সালাবাদ, লাহোর এবং মুলতানে মোট ৩৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল ম্যাচটি ২৭ মার্চ ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। তবে, পাকিস্তান দলের নিউজিল্যান্ড সফরের কারণে কিছু বড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন না।
খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ ফি কমানোর সিদ্ধান্তে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা ক্ষুব্ধ হন। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং খেলোয়াড়দের প্রতি অবিচার বলে অভিহিত করেছেন। তবে, পিসিবি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে তাদের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলের শোচনীয় পারফরম্যান্স পাকিস্তানি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। তবে, পিসিবি চেয়ারম্যানের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন আশা জাগাচ্ছে যে, ভবিষ্যতে পাকিস্তান ক্রিকেট আবারও উজ্জ্বল হবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের পারফরম্যান্স উন্নত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে পিসিবির সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নই পারে পাকিস্তান ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।