ছিঃ লজ্জা জনক কান্ড! ইমাম পছন্দ হয়নি, প্রতিবাদে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার খুঁটিতে বাধা হলো জুতো

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে জুতো ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার, ৭ মার্চ জুম্মার নামাজের সময় এই ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন যুবক জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে জুতো বেঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন এবং অশ্লীল স্লোগান দিচ্ছেন।

কী ঘটেছিল?
সংবাদপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজের ডিগ্রি শাখার মসজিদের প্রাক্তন ইমাম মারুফ বিল্লাহকে সম্প্রতি নানা অভিযোগের ভিত্তিতে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একদল যুবক শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে জুতো ঝুলিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, ৮-১০ জন যুবক এই কাণ্ড ঘটায়। কলেজ প্রশাসনের দাবি, এটি তাদের সম্মানহানির ইচ্ছাকৃত প্রয়াস।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কলেজ প্রশাসনের মতবিরোধ দীর্ঘদিনের। শুক্রবার নামাজের আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, “ভিক্টোরিয়া কলেজ একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ কাম্য নয়। আমরা প্রাক্তন ইমামকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি বর্তমান ইমামকে বাদ দিয়ে এমন একজন নতুন ইমাম নিয়োগের দাবি করছি, যিনি কলেজ ও এলাকার কাছে অপরিচিত।” তবে, মারুফ বিল্লাহর অনুসারীরা এই বক্তব্য মেনে না নিয়ে খুতবার সময় মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। নামাজ শেষে তারা জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে জুতো ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এই ঘটনাকে জাতীয় পতাকার অবমাননা হিসেবে দেখছেন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কলেজ প্রশাসন পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত ইমামের বক্তব্য
প্রাক্তন ইমাম মারুফ বিল্লাহ বলেন, “এই ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। কলেজ প্রশাসন আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে, আমি সেখান থেকে চলে এসেছি। এখন কী ঘটছে, তা আমার জানা নেই।” তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁর অনুসারীরাই এই ঘটনার জন্য দায়ী।

পুলিশের ভূমিকা
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, “কলেজ প্রশাসন মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছে, তবে লিখিত অভিযোগ এখনও পাইনি। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্যে জড়িতদের খুঁজছে।

জনমত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা দেশে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনের প্রয়োজন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেনি। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পতাকার অবমাননার মতো ঘটনা জনমনে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। আগামী দিনে এই ঘটনার তদন্ত ও বিচার কীভাবে এগোয়, সেদিকে নজর রাখছে সবাই।